বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন

রাতে ঘুমানোর কতক্ষণ আগে পানি খাওয়া উচিত? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ন

ডিনার শেষ করে আধা ঘণ্টা পর অনেকেই এক-দুই গ্লাস পানি খেয়ে নেন। ভাবেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে যেন শরীর ডিহাইড্রেটেড না লাগে। আবার কেউ কেউ রাতে পায়ের পেশিতে টান ধরা এড়াতেও বেশি পানি পান করেন। শারীরবৃত্তীয় স্বাভাবিক কাজের জন্যও শরীরে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন, এ কথা নতুন নয়।

তবে প্রশ্ন হলো, ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক কতক্ষণ আগে এবং কতটা পানি খাওয়া উচিত? এ বিষয়ে সচেতন না হলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।

রাতে ঘুমের সময়েও পানির প্রয়োজন 

হাইড্রেটেড থাকা আর শুধু পিপাসা মেটানো; দুটি কিন্তু এক বিষয় নয়। আমাদের শরীরের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করতে নিয়মিত পানি দরকার। ঘুমের মধ্যেও শ্বাস-প্রশ্বাস ও ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে কিছুটা পানি বেরিয়ে যায়। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে সামান্য পানি পান করাটা অপ্রয়োজনীয় নয়।

পানি শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেয়। ফলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং প্রতিটি কোষে যথাযথভাবে অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে।

২০২৫ সালে PubMed Central-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ঘুমানোর আগে অল্প পরিমাণ পানি পান করলে পরদিন সকালে মন তুলনামূলকভাবে সতেজ থাকে। অর্থাৎ, অবসাদ কাটাতেও পানির ভূমিকা রয়েছে।

বেশি পানি মানেই কি ভালো ঘুম?

সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন রাতে ঘুমের মধ্যে বারবার প্রস্রাবের বেগ আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় Nocturia।

চিকিৎসকরা বলছেন, সন্ধ্যার পর থেকে অতিরিক্ত তরল গ্রহণ করলে এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে নিরবচ্ছিন্ন বিশ্রাম ব্যাহত হয়। ফলে পরদিন ক্লান্তি, ঝিমুনি এবং কাজে অমনোযোগিতা দেখা দিতে পারে।

২০২৬ সালে রিসার্চ গ্যাজেটে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ‘ডোজ-রেসপন্স’ সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। অর্থাৎ, সন্ধ্যার পর তরল গ্রহণের পরিমাণ যত বাড়ে, ঘুমের মানের ওপর তার প্রভাব তত স্পষ্ট হয়।

তাহলে কখন, কতটা পানি পান করবেন?

বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ হলো, ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে পানি পান সেরে নেওয়া ভালো। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ। গ্লাসের পর গ্লাস পানি খেয়ে ফেললে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং ঘন ঘন বাথরুমে যাওয়ার ঝামেলা বাড়বে।

বিশেষ করে যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সতর্কতার দাবি রাখে। আবার যাদের ঘুমের মধ্যে মুখ শুকিয়ে যায় বা পায়ের পেশিতে টান ধরে, তারা অল্প পরিমাণ পানি পান করতে পারেন। তবে নিয়মিত এমন সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শেষ কথা

পানি আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য, এ নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু সঠিক সময় ও সঠিক পরিমাণে পানি পান করাই হলো সুস্থ ঘুমের চাবিকাঠি। তাই রাতের ঘুম যেন নিরবচ্ছিন্ন ও প্রশান্ত হয়, সে জন্য পানির অভ্যাসে আনুন ছোট্ট সচেতনতা।-সূত্র : এই সময়


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর