বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ঋণ খেলাপির অভিযোগে ব্যবসায়ী সরওয়ার মোর্শেদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুতের একটি বড় অংশ টেনে নিচ্ছে ব্যাটারি রিকশা ও ই-বাইক: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী হাসানের ৬ শিকারে অস্ট্রেলিয়া অলআউট ১৯৮ রানেই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল বিপ্লব কুমারসহ পুলিশের ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত রাজনীতি নয়, মনেপ্রাণে ক্রীড়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কোকো : প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন আজ মার্কিন রণতরীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ৭ মার্কিন সেনা নিহত তিন জেলায় নতুন পুলিশ সুপার

মানসিক অবসাদ : কখন সতর্ক হওয়া জরুরি

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ন

মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশন (Depression) হলো একটি গুরুতর মনস্তাত্ত্বিক অসুখ, যা কারো চিন্তা, অনুভূতি এবং আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি সাধারণ মন খারাপের চেয়ে ভিন্ন এবং দীর্ঘস্থায়ী। এর ফলে কাজের প্রতি আগ্রহ হারানো, সবসময় বিষণ্ন থাকা, ক্লান্তি, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া এবং চরম হতাশাবোধ তৈরি হতে পারে

ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ কোনো সাধারণ মনখারাপ নয়, এটি একটি বাস্তব মানসিক স্বাস্থ্যজনিত অসুখ। যেমন শরীর অসুস্থ হতে পারে, তেমনই মনও অসুস্থ হতে পারে- আর সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া খুবই প্রয়োজন।

আমাদের সমাজে এখনো মানসিক অবসাদকে অনেক সময় হালকাভাবে দেখা হয়। ‘সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে’ ভেবে অবহেলা করা হয়। কিন্তু শুরুতেই লক্ষণগুলো বুঝে ব্যবস্থা না নিলে সমস্যা ধীরে ধীরে জটিল হয়ে উঠতে পারে।

মানসিক অবসাদের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। যেমন, দীর্ঘদিনের চাপ, সম্পর্কের সমস্যা, ব্যর্থতা, একাকিত্ব বা হরমোনজনিত পরিবর্তনও এর জন্য দায়ী হতে পারে। অনেক সময় আমাদের দৈনন্দিন আচরণেই এর ইঙ্গিত লুকিয়ে থাকে।

সব সময় মন খারাপ লাগা

ডিপ্রেশনের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ থাকা। আগে যেসব কাজ বা বিষয় ভালো লাগতো, সেগুলোতেও আর আগ্রহ থাকে না। সারাক্ষণ এক ধরনের শূন্যতা বা দুঃখবোধ কাজ করে।

অল্পতেই রাগ বা বিরক্তি

মানসিক অবসাদে ভুগলে মানুষ অনেক সময় অকারণে রেগে যান। সামান্য বিষয়েও মেজাজ হারিয়ে ফেলা, চিৎকার করা বা অস্বাভাবিক বিরক্তি প্রকাশ করা এর লক্ষণ হতে পারে।

অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া

খুব ছোট ঘটনায় অতিরিক্ত কষ্ট পাওয়া, হতাশ হয়ে পড়া বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাও ডিপ্রেশনের ইঙ্গিত হতে পারে। নিজেকে খুব অসহায় বা অমূল্য মনে হওয়াও এর অংশ।

সব সময় ক্লান্ত লাগা

কোনো কাজ না করেও সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা, শরীর ভারী মনে হওয়া বা কাজ করার শক্তি না পাওয়া মানসিক অবসাদের বড় লক্ষণ। এটি শুধু শারীরিক ক্লান্তি নয়, মানসিক অবসাদ থেকেও এমন হতে পারে।

কাজে অনীহা ও আগ্রহ হারানো

দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা, অফিস বা ঘরের দায়িত্ব- কিছুই করতে ইচ্ছে না করা, বারবার কাজ ফেলে রাখা বা সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে।

খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন

হঠাৎ করে খাওয়ার ইচ্ছে একেবারে কমে যাওয়া বা উল্টোভাবে অস্বাভাবিক বেশি খাওয়া- দুই-ই মানসিক অবসাদের সঙ্গে জড়িত হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

যদি এই লক্ষণগুলো দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে এবং আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কাজ বা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তাহলে দেরি না করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলা জরুরি। মানসিক অবসাদ লুকিয়ে রাখার বিষয় নয়। সঠিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং প্রয়োজন হলে ওষুধের মাধ্যমে ডিপ্রেশন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর