বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবি, পিটিশনে ২ কোটি ৩০ লাখের বেশি স্বাক্ষর বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার এখন কে সালমান শাহ হত্যা মামলা, ৩০ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ যেখানেই যাই, বাংলাদেশের খাবারের প্রশংসা করি: আতিফ আসলাম নীল রঙের মায়ায় নিউ ইয়র্কের রাস্তায় মেহজাবীনের রূপের জাদু বিপৎসীমা ছুঁয়েছে সুরমা ও কুশিয়ারা, তবে বন্যার পূর্বাভাস নেই সিলেটে সৌদি জাহাজে হামলার পর ইরানকে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ ককরোচ প্রধানের সাময়িক বিরতি, শিগগিরই ফেরার ঘোষণা বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঐকমত্য

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরবের মধ্যে কৌশলগত ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বুধবার এ ঘোষণা দিয়ে জানায়, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ একে ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছে, এর আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবকে পারমাণবিক প্রযুক্তি সরবরাহ করবে।

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, ‘এই চুক্তিগুলো আমাদের দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে সমৃদ্ধি এবং বিদেশে আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।’ তিনি দাবি করেন, চুক্তিগুলো পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তার রোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখেই বাস্তবায়ন করা হবে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানীদের দক্ষতা ব্যবহার করা হবে।

তবে কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরব নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ পেতে পারে, যা এতদিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহ করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল থাকার ধারণার বাইরে। যদিও জ্বালানি বিভাগের প্রকাশিত বিবৃতিতে এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হলে তা ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করার দাবি তুলে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল।

চুক্তিটিকে ‘দশকব্যাপী, বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এটি এখন পর্যালোচনার জন্য কংগ্রেসে পাঠানো হবে।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিষিদ্ধ নয়। তবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে বিষয়টি সবসময়ই আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকেই একমাত্র দেশ হিসেবে মনে করা হয়, যার কাছে পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে, যদিও দেশটি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো স্বীকার বা অস্বীকার করেনি।

ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং রিয়াদের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চলমান সংঘাতে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা ঘাঁটি ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর