কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সবাইকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের প্রশংসা করতে হবে এ কারণে যে তারা হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিক সব তথ্য-উপাত্ত দ্রুততম সময়ে উদ্ধার করেছে।
পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মতো অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন যাতে দ্রুত দেওয়া যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অনেকটা কিশোর অপরাধীর মতো। তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে এই ছেলের সম্পর্ক ছিল, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। তাদের বয়স নিহত শিশুটির চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বেশি। হত্যার সময় ছেলেটির হাতে থাকা মুঠোফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু আলামতও পাওয়া গেছে। পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আমরা পুলিশের প্রশংসা করতে পারি যে তারা ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পোস্টমর্টেম করে তার দাফন হয়েছে।’
অপরাধ কেন সংঘটিত হচ্ছে, তার পেছনে তাকালে অনেক ক্ষেত্রে মাদক ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা দেখা যায় বলে জানান মন্ত্রী। এ সমস্যা সমাধানে মোটিভেশনাল কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলেন তিনি। স্কুলের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জোর দিতে হবে, যাতে তারা সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অপরাধ সংঘটিত হলে সেটার বিচার হচ্ছে কি না, সেটা দেখতে হবে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিটি জঘন্য অপরাধের ঘটনার রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। আর যেগুলো সময়সাপেক্ষ, সেগুলোর কার্যক্রম চলছে। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে বলে গত শুক্রবার দুপুরে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। নিখোঁজের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতিম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত সে। মা নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল অ্যাকসেসরিজের ব্যবসা করেন।