সারাদেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে ৫৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল গায়েব হওয়ার ঘটনায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার এক বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হক-কে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী এই বহিষ্কার কার্যকর করা হয়েছে।
জানা যায়, জেলা প্রশাসনের তদারকির অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার মো. আফসারুল ইসলাম, যিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী, গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া বাজারে অবস্থিত হাফেজ আজিজুলের মালিকানাধীন একটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে ভৈরব বাজার ডিপো থেকে প্রাপ্ত চালান অনুযায়ী ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি সরবরাহের তথ্য পাওয়া যায়। তবে মজুত ও বিক্রির হিসাব চাইলে স্টেশনের ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন। তিনি দাবি করেন, ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে এবং বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই।
এতে অসংগতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও জোরদার হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত ও কালোবাজারির প্রমাণ মেলে। মাত্র ছয় দিনে প্রায় ৫০ থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেলের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় একই দিন রাতে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত হিসেবে স্টেশন ম্যানেজার রিফাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তবে বহিষ্কৃত নেতা হাফেজ আজিজুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি একটি ষড়যন্ত্র এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
উল্লেখ, এর আগে গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরনকেও দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছিল।