আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গতকাল ১৮৫ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশিত হয়েছে। আমি রায়টি পড়েছি। যেহেতু এটি সংবিধানের ব্যাখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাইকোর্ট বিভাগ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কিছু নির্দেশনা দিলেও এটি চূড়ান্ত নয়।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত থাকলে হাইকোর্ট সার্টিফিকেট দিতে পারে। আমরা সংবিধানের ব্যাখ্যার জন্য সেই সার্টিফিকেট চেয়েছিলাম। তাই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আপিল বিভাগে হওয়াই সমীচীন। রাষ্ট্রের পক্ষে আমাদের অবস্থান হলো, যেহেতু সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয় জড়িত, সেহেতু দ্রুতই আপিল দায়ের করা হবে।
রায়ে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) এবং শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত-সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের এ বিধান বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। ফলে এ দায়িত্ব এখন সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হলো। একইসঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে প্রণীত শৃঙ্খলা বিধিমালাও বাতিল করা হয়েছে।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সাত আইনজীবী রিট দায়ের করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
রিটকারীদের আইনজীবীদের মতে, এ ব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থাকায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়।
১৯৭২ সালের সংবিধানে এ ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। ১৯৭৪ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে’ শব্দগুলো যুক্ত হয়। পরবর্তীতে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হলেও ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদের বিধান বহাল রাখা হয়।