মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর নতুন নজির স্থাপন করল যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন, শিগগিরই ব্রিটিশ নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই চীন সফরের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা চীনে দেড় হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পথে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের কাতারে শামিল হলো যুক্তরাজ্য।
সিএনএন জানায়, প্রায় আট বছর পর কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে গেলেন। চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে স্টারমার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে স্টারমার বলেন, বৈশ্বিক অঙ্গনে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং ব্রিটিশ জনগণের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব অত্যন্ত জরুরি। সে জন্য যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব প্রয়োজন।
বৈঠকের পর চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে একতরফাবাদ, সুরক্ষাবাদ ও ক্ষমতার রাজনীতির উত্থানের প্রেক্ষাপটে চীন ও যুক্তরাজ্য একসঙ্গে বহুপক্ষীয়তা ও মুক্ত বাণিজ্য রক্ষায় কাজ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির ফলে একের পর এক মার্কিন মিত্র দেশের চীন সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। চলতি মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং গত মাসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ চীন সফর করেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে দূরত্ব তৈরির পাশাপাশি নিজেকে মুক্ত বাণিজ্য ও বিশ্বায়নের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় বেইজিং। সে কারণেই এসব সফরকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে চীন।
এদিকে স্টারমারের চীন সফর ঘিরে হোয়াইট হাউসের কড়া নজর রয়েছে। এর আগে কানাডা চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিলে কানাডার পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।