আজ শনিবার (১৮ জুলাই) পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং যেকোনো সময় তা আরও অবনতি হতে পারে। বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট বাতিল ও আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণেও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এ সতর্কতা জারির কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এতে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে সরকারি হিসাবে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র বড় পরিসরে হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরান প্রায় প্রতিদিনই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, ওমান, ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ‘শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা তারা ভুলতে পারবে না। এর আগে তেহরান সতর্ক করে বলেছিল, ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় মার্কিন হামলার মূল্য পুরো অঞ্চলকে দিতে হবে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৫০০ জনের বেশি।
অন্যদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রথম দফার হামলায় ইরানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন এবং লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানে আরও প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন। তবে এসব হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।