শুক্রবার ( ২৯ মে) কাজাখস্তানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের শেষ দিনে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন এ মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা, যারা গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, আপনাদের সহকর্মীদের জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “স্টারোবেলস্কের ট্র্যাজেডি নিয়ে একটিও শব্দ নেই। শিশুদের হত্যার বিষয়ে একটিও কথা নেই। আমাদের শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করে হত্যা করা হয়েছে—এ নিয়ে কোনো কথা নেই, যেন এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।”
তিনি এর বিপরীতে রাশিয়ার প্রতিশোধমূলক হামলা নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ার বিস্তৃত কাভারেজের কথা উল্লেখ করেন, যা তার মতে “মস্কোর আগ্রাসনের” আরেকটি উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
পুতিন এ ধরনের প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেন, এটি “লজ্জাজনক” এবং “তারা তাদের নিজস্ব নাগরিকদের স্রেফ বিভ্রান্ত করছে।”
গত সপ্তাহে ইউক্রেনীয় কামিকাজে ড্রোন রাশিয়ার লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের স্টারোবেলস্ক প্রফেশনাল কলেজে তিন দফায় হামলা চালায়। এতে প্রধান ভবন ও ছাত্রাবাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলাকে “ডাবল-ট্যাপ স্ট্রাইক” বলা হয়েছে, যেখানে প্রথম প্রতিক্রিয়াকারীদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এ ঘটনায় ২১ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন ভবিষ্যৎ শিক্ষক হওয়ার জন্য অধ্যয়নরত কিশোরী ছাত্রী; আরও ৬৫ জন আহত হন।
মস্কো কিয়েভকে ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করার অভিযোগ করে এবং স্টারোবেলস্ক হামলাকে “ভয়াবহ অপরাধ” হিসেবে বর্ণনা করে। রাশিয়ার জাতিসংঘ দূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, পশ্চিমা সরকারগুলো আবারও “নিও-নাৎসি কিয়েভ শাসনের” অপরাধের দিকে চোখ বন্ধ করে আছে এবং শিশু ভিকটিমদের নিয়ে “খোলামেলা উপহাস” করছে।
প্রায় ১৯টি দেশের ৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক রাশিয়ার আমন্ত্রণে রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ব্রিটিশ রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি এবং মার্কিন নেটওয়ার্ক সিএনএন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে অস্বীকৃতি জানায়।