শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
মগড়া নদীর উপর দৃশ্যমান হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ‘নেটওয়ার্ক আর্চ ব্রিজ’ দেশের দারিদ্র্য দূর করে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে চাই : মির্জা ফখরুল আজ রাতে প্রথম হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে বাংলাদেশকে আরও ৬০ দিনের ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু আজ মিরপুরে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ এপ্রিল-মে মাসের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি আছে: প্রতিমন্ত্রী অমিত ইরানের সঙ্গে দ্রুতই শেষ হবে যুদ্ধ- ট্রাম্প ‘সংসদে বিরোধীদলের কণ্ঠরোধ করায় ১১ দলীয় ঐক্যজোট রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছে’-ডা. শফিকুর রহমান

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কসোভোর রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : বুধবার, ২৫ জুন, ২০২৫, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কসোভো প্রজাতন্ত্রের বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা। মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে  যমুনায় তারা একে অপরের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এটি ছিল রাষ্ট্রদূত প্লানার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাত। এসময় প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত প্লানাকে তার নিয়োগের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বাংলাদেশের ‘জুলাই বিদ্রোহ’-এর চেতনার কথা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা কসোভোর জনগণের স্বাধীনতা, শান্তি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি তাদের অবিচল প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন।

জবাবে কসোভোকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত প্লানা। তিনি ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে কসোভো অঞ্চলের সশস্ত্র সংঘাতের পর কসোভোর জনগণের জীবনে পুনর্গঠনে গ্রামীণ কসোভোর অবদানের কথা স্মরণ করেন

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে একজন মূল্যবান অংশীদার হিসেবে দেখি। আর আমি আপনার ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান জানাতে চাই। আপনার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ট্রাস্ট আমাদের জাতির জন্য এক বিশাল সহায়তা ছিল। স্বাধীনতা ও উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসেবে বাংলাদেশি সদস্যদের অবদান এবং সহায়তার জন্য আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।

১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কসোভো বর্তমানে দেশটির শীর্ষ মাইক্রোক্রেডিট সংস্থা, যা ২০টি পৌরসভা ও ২১৯টি গ্রামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ৯৭ শতাংশ ঋণগ্রহীতা নারী। বাংলাদেশের গ্রামীণ ট্রাস্ট এই মাইক্রোক্রেডিট কার্যক্রমের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান।

সেই কঠিন সময় স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটা আমাদের জন্য একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল। আমরা যখন সেখানে যাই, তখন পুরো অঞ্চল ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল। পুরুষরা তখনও ফিরে আসেনি। কোনও মুদ্রা ছিল না, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ছিল না। তখন আমরা শূন্য থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু করি।

দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে বৈঠকে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা রফতানিমুখী পোশাক, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো সম্ভাবনাময় খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি কসোভোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত প্লানা দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উভয় দেশের বাণিজ্য ও শিল্প চেম্বারগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

মানবিক সংযোগ জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা কসোভোর বিভিন্ন খাতে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য সহায়তার আহ্বান জানান। তিনি আরও প্রস্তাব দেন, কসোভোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং সে লক্ষ্যে বৃত্তি, ফেলোশিপ ও একাডেমিক অনুদান প্রদান করা যেতে পারে।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর