গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিক্ষোভ দমন করতে আন্দোলনকারীদের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই তথ্য উঠে এসেছে বিবিসির অনুসন্ধানী ইউনিট বিবিসি আই ইনভেস্টিগেশনে। ওই সময়ের ফোনালাপ বিশ্লেষণ করে সেই নৃশংসতার ঘটনায় তার সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে বিবিসি আই।
চলতি বছর মার্চ মাসে অনলাইনে ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে শেখ হাসিনাকে একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে বলতে শোনা যায়, তিনি তার নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘মারণাস্ত্র ব্যবহারের’ অনুমতি দিয়েছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে, গুলি করা হবে’।
বিবিসি অডিও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ টিম এয়ারশটের মাধ্যমে ভেরিফাই করেছে ওই রেকর্ড। স্বরের ভঙ্গি, শ্বাসপ্রশ্বাসের আওয়াজসহ বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়েছে, কলের কোনো অংশ এডিটেড বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এয়ারশট জানিয়েছে, ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড থেকে ধারণা করা যায় কথা হয়েছে স্পিকারে। ঢাকায় বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় এই অডিও রেকর্ডিংটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখছেন আইনজীবীরা।
বিবিসির দেখা পুলিশের নথিপত্র অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ওই ফোন কলের পরবর্তী দিনগুলোতে সামরিক মানের রাইফেল ঢাকা শহরজুড়ে ব্যবহৃত হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচার গুলি ও হত্যার বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বাহিনীর একজন মুখপাত্র ঘটনা স্বীকার করে বিবিসিকে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে তৎকালীন পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্য অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে অপেশাদার আচরণ করেছিলেন।