বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দীর্ঘ এক বছর পর আবারও আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। এই টাউন হল ময়দানে দাঁড়িয়ে আমি কুমিল্লা বিভাগের কথা বলেছিলাম। যখন জবান দিয়েছি, আমরা নির্বাচিত হলে সেটি বাস্তবায়ন করব। দেশের প্রয়োজনে যতই বিভাগ হোক না কেন, কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে।
গতকাল শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে কুমিল্লা টাউন হল প্রাঙ্গণে জেলার দ্বিতীয় নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ফুটপাত থেকে শুরু করে শিল্পপতি, কোনো ব্যবসায়ীই চাঁদাবাজদের জ্বালায় ঘুমাতে পারছে না। আমরা সরকারে গেলে দেশে কোনো চাঁদাবাজ থাকবে না। চাঁদাবাজি ভিক্ষার চেয়েও ঘৃণিত কাজ।
আমরা তাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।নিজেরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন দাবি করে ডা. শফিকুর বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে সবচেয়ে নির্যাতিত দল ছিল জামায়াত। আর কোনো দলের প্রথম সারির ১১ জন নেতাকে হত্যা করা হয়নি। কোনো দল এত জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়নি।
কোনো দলের নেতাকর্মীকে এভাবে গুম করা হয়নি। তারপরও ৩৬ জুলাইয়ের পর আমরা কারও ওপর প্রতিশোধ নিইনি। আমরা ওয়াদা করছি, ভবিষ্যতেও কারও ওপর প্রতিশোধ নেব না। তবে জুলাই আন্দোলনে ভিকটিম পরিবার যদি চায়, আমরা তাদের পাশে থাকব।তিনি বলেন, আমরা কখনো চাঁদাবাজি ও লুটপাটের রাজনীতি করিনি।
৫ আগস্টের পর আমরা শহীদ পরিবারের সদস্যদের কাছে গিয়েছি। তাদের প্রত্যেকের চোখে পানি নয়, চোখের কোণে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত দেখেছি। আজ আমি যখন ফেনীতে যাই, এক শহীদের মা আমাকে জড়িয়ে ধরেন। একটি পক্ষ এটিকে নিয়ে বুলিং করছে। তিনি আমাদের মা, শহীদের মা। তাকে নিয়ে বুলিং করতে তোদের বিবেকে বাধে না?জামায়াতের কুমিল্লা মহানগর আমির ও কুমিল্লা-৬ আসনে দল মনোনীত প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহসহ অন্যরা।