সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল (পে স্কেল) বাস্তবায়নে নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুই ধাপে কার্যকরের পরিবর্তে নতুন বেতন কাঠামো একবারেই বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে ভাবছে।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুরুতে নবম পে স্কেল ধাপে ধাপে কার্যকরের বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও পরবর্তী আলোচনায় সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এককালীন বাস্তবায়নের বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আইবাস (iBAS) ব্যবস্থার কারিগরি জটিলতা, দুই ধাপে বাস্তবায়নের অতিরিক্ত ব্যয় এবং সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে সম্ভাব্য অসন্তোষ এড়াতেই একবারে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের চিন্তা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আজ সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময়সূচি, সরকারের ওপর আর্থিক প্রভাব এবং বিভিন্ন ক্যাডার ও গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে বেতনগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি কমিশনের প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। যদিও আগামী ১ জুলাই থেকে মূল বেতন কার্যকরের লক্ষ্য সামনে রেখেই আলোচনা এগোচ্ছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন ধরনের ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয়ের প্রক্রিয়া ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত সময় নিতে পারে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
তবে নবম পে স্কেল নিয়ে এখনো সরকারিভাবে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের আগ্রহ ও অপেক্ষা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।