সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ জন্য আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ একযোগে বাস্তবায়ন করতে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থের প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব
প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হলেও বেতনের পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল একবারে কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হতে পারে। এরপর পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে।
নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীকেও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমানে তুলনামূলক কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হতে পারে। ফলে বিপুলসংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী সরাসরি উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এক ধাপে বাস্তবায়নের দাবি
তাদের দাবি, নতুন পে-স্কেল এক ধাপেই বাস্তবায়ন করতে হবে এবং শতভাগ বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনা না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে।
অর্থনীতিতে প্রভাব
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের আয় বৃদ্ধি পাবে, যা বাজারে ভোগব্যয় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে একই সঙ্গে সরকারের ব্যয়ভার ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত চাপও তৈরি হতে পারে।