বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৬:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজায় মানুষের ঢল, জয় বাংলা স্লোগানে বিদায় ঈদের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি, বন্ধেও যেসব অফিস খোলা থাকবে ঢাকাসহ যেসব রুটে শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করল এয়ার ইন্ডিয়া ভূমি অধিগ্রহণে নতুন ব্যবস্থাপনা চালুর ঘোষণা দিলেন সিনিয়র সচিব ‘ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে’-হাবিবুল্লাহ সায়ারি ১ কোটি টাকা দিলে কেস থেকে নাম উঠিয়ে দেবে: সাকিব আল হাসান বিশ্বকাপ উপলক্ষে ফুটবল সমর্থকদের জন্য ভিসা বন্ড শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র বেইজিংয়ে ট্রাম্প-সি বৈঠক, ইরান ও তাইওয়ান ইস্যুতে আলোচনা ডিসেম্বরে ময়মনসিংহ থেকে আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হবে : রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে ইসি

বেইজিংয়ে ট্রাম্প-সি বৈঠক, ইরান ও তাইওয়ান ইস্যুতে আলোচনা

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ন

ইরান ইস্যু, বাণিজ্য ও তাইওয়ান পরিস্থিতির মতো জটিল সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে বেইজিংয়ে বৈঠকে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা নেতা সি চিনপিং। বৃহস্পতিবার সকালে বেইজিংয়ে বিশ্বের এ দুই পরাশক্তির শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়।বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানান।

আজ বৃহস্পতিবার ( ১৪ মে) সকাল ১০টার কিছু সময় পর গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ করমর্দন করে ট্রাম্পকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সি চিনপিং। বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যে গভীর উত্তেজনার আবহ থাকলেও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানটি ছিল বেশ আড়ম্বরপূর্ণ।

এ সময় সি চিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সঙ্গে নিয়ে সফররত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলান। প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন পেন্টাগন প্রধান পিটার হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। উল্লেখ্য, রুবিও দীর্ঘ সময় ধরেই বেইজিংয়ের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত।

উভয় নেতা হলের কেন্দ্রে অবস্থানকালে চীনা সামরিক ব্যান্ড প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত ‘দ্য স্টার-স্প্যাংল্ড ব্যানার’ এবং পরে চীনের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে ও তোপধ্বনি তোলা হয়। এরপর দুই দেশের পতাকা হাতে রঙিন পোশাক পরা একদল শিশু নেচে-গেয়ে ‘স্বাগতম, স্বাগতম’ বলে তাদের অভিনন্দন জানায় এবং ট্রাম্প ও সি তাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যায়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ট্রাম্পের সম্মানে গ্রেট হলে একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অব হেভেন’ পরিদর্শন করবেন। এটি একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান, যেখানে চীনের সম্রাটরা একসময় ভালো ফসলের জন্য প্রার্থনা করতেন।

দুই দিনের এই সম্মেলনে যোগ দিতে বুধবার রাতে এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে বেইজিং পৌঁছান ট্রাম্প। তার প্রতিনিধি দলে এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং টেসলার ইলন মাস্কের মতো শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। তাদের উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবসায়িক চুক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০১৭ সালের পর প্রায় এক দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন সফর করছেন। সেবার ট্রাম্পের সঙ্গে তার স্ত্রী মেলানিয়া থাকলেও এবার তিনি একাই এসেছেন।

ট্রাম্পের এবারের সফরের অন্যতম লক্ষ্য হলো কৃষি ও উড়োজাহাজ খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে বড় ধরনের ব্যবসায়িক চুক্তি করা। বেইজিং আসার পথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, তিনি সি চিনপিংকে অনুরোধ করবেন যাতে চীন মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য তাদের বাজার উন্মুক্ত করে দেয়।

তবে নয় বছর আগে ট্রাম্প যখন বেইজিং সফর করেছিলেন, তখনকার চেয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বর্তমানে অনেক বেশি।

বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের অবস্থানকে কিছুটা দুর্বল করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই যুদ্ধের কারণেই গত মার্চে নির্ধারিত সফরটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা হলো চীন।

এই বিষয়ে ট্রাম্প জানান, সি’র সঙ্গে তার দীর্ঘ আলোচনা হবে। তবে তিনি এও বলেন যে, ‘ইরান ইস্যুতে বেইজিংয়ের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই আমাদের।’

অবশ্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে ইরান বর্তমানে যা করছে, তা থেকে তাদের বিরত রাখতে চীন যাতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে; সেই বিষয়ে বেইজিংকে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন তারা।

দীর্ঘদিনের বাণিজ্য যুদ্ধও এই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। গত বছর ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক আরোপের জবাবে চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ায় শুল্কের হার ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার বৈঠকের পর এক বছরের জন্য শুল্ক বৃদ্ধির ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আজ আলোচনা হতে পারে, যদিও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।

তাইওয়ান ইস্যুতেও ট্রাম্প নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সোমবার তিনি জানান, স্বশাসিত এই ভূখণ্ডে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তিনি সি’র সঙ্গে কথা বলবেন। ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের সঙ্গে কোনো আলোচনার নীতি অনুসরণ না করলেও ট্রাম্পের এই অবস্থান তাইপেই ও ওই অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের নজর কাড়বে।

এছাড়া বিরল খনিজ রপ্তানিতে চীনের নিয়ন্ত্রণ, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রতিযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনার কথা রয়েছে।

উভয় পক্ষই এই সম্মেলন থেকে নিজেদের পক্ষে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। একই সাথে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ককে কিছুটা স্থিতিশীল করারও প্রয়াস রয়েছে।

ট্রাম্প আশা করছেন, সি চিনপিংকে ২০২৬ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে সফরের জন্য রাজি করাতে পারবেন, যা তার ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর