সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ফেসবুক ডিলিট করতে চান তুষি নরওয়ের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি বাতিলের ঘটনায় মালয়েশিয়ার ক্ষোভ খসড়া প্রস্তাবে ১২শ’ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়ের দাবি ইরানের : রাষ্ট্রীয় টিভি ৩৬ হাজার টন ঈদ বর্জ্য অপসারণ করেছে ডিএসসিসি ফ্রান্সে এআই খাতে ৮৭.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপানি প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রামিসা হত্যাকাণ্ডে আদালতে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে: আইনমন্ত্রী ‘এনসিপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওপেন সিক্রেট’-রাশেদ খাঁন আজ রাতে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণহানি বেড়ে ৫৮৫ জন

আজ থেকে সাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ন

আজ ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরার সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে।

আজ থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ১১ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ৫৮ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপকূলীয় জেলা ভোলা ও তৎসংলগ্ন জেলাগুলোর মৎস্য অধিদপ্তর নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

দীর্ঘ এ নিষেধাজ্ঞার ফলে উপকূলীয় জেলা ভোলার সাতটি উপজেলার প্রায় ৬৫ হাজার নিবন্ধিত জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার। সাগরমুখী ভোলার জেলেরা জানিয়েছেন, সরকারের জারিকৃত এ আইন মেনে তারা ইতোমধ্যে জাল ও ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরেছেন।

ভোলা সদরের ইলিশা মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা মিয়া বলেন, নিষেধাজ্ঞার প্রথম সপ্তাহেই সাগরে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তির টাকা আদায় বন্ধ রাখা হয়।

ভোলা জেলার মৎস্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাত উপজেলায় মোট ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। যারা শুধু সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৫৬১ জন জেলে রয়েছেন চরফ্যাশন উপজেলায়। অন্যান্য উপজেলার মধ্যে দৌলতখানে ১১ হাজার ৫৫০ জন, মনপুরায় ১০ হাজার ১৮৫ জন, লালমোহনে ৮ হাজার ৮০৪ জন, বোরহানউদ্দিনে ৭ হাজার ৬৫০ জন, তজুমুদ্দিনে ৪ হাজার ৫০৬ জন এবং ভোলা সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৬৯৮ জন জেলে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েন।

এদিকে মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেরা সাগরে প্রশাসনের টহল ও অভিযান আরো জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন যেন কোনোভাবেই ভিনদেশি জেলেরা বাংলাদেশের সীমানায় অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা। দেশের জলসীমায় কঠোর নজরদারি জোরদার হলে নিষেধাজ্ঞা শেষে পর্যাপ্ত মাছ আহরণের ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আশা করছেন ভোলার জেলেরা।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বাসসকে বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা ও টাস্কফোর্স কমিটির পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মাছ ঘাটগুলোতে সচেতনতামূলক সভা ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জেলেদের অভাব লাঘবে নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই প্রত্যেক নিবন্ধিত জেলেকে ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

সরেজমিনে ভোলার বিভিন্ন মাছ ঘাট ও মেঘনা নদীর সংযোগ খালগুলোতে দেখা গেছে, সমুদ্র থেকে ফেরা ট্রলারগুলোর ভিড় বাড়ছে। তীরে ফিরতে শুরু করেছেন জেলেরা। তারা নিজেদের জাল, ট্রলার ও সরঞ্জামাদি নিরাপদে রাখছেন। কেউবা ছেড়া জাল সংস্কার করছেন। কেউ করছেন ট্রলারের ইঞ্জিন মেরামতের কাজ।

তবে, যথাসময়ে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলে জেলার সমুদ্রগামী এসব জেলেরা আগামী ৫৮ দিন পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটাতে পারবেন বলে মনে করছেন জেলার মৎস্য সংশ্লিষ্ট সমিতির নেতারা।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর