বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করে। এতে জর্ডান ও পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নিন্দা জানানো হয় এবং তেহরানকে অবিলম্বে এসব আকাশপথে হামলা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।
প্রস্তাবটির পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের ১৩টি দেশ ভোট দেয়, আর বাকি দুই সদস্য রাশিয়া ও চীন ভোটদান থেকে বিরত থাকে।
এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা শুরু করে। এতে ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হন বলে দাবি করা হয়। সেই সময় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলছিল।
ইরান বলেছে, তাদের পাল্টা হামলায় ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চলের বহু লক্ষ্যবস্তু আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে তেহরান দাবি করেছে যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা সংযম দেখিয়েছে এবং মূলত পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে।
বুধবারের বৈঠকে জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ইরানকে নিন্দা করে কোনো প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে না।
তিনি বলেন, ‘গৃহীত এই প্রস্তাব পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি আনতে সক্ষম নয়। বরং এটি অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পক্ষগুলোর মধ্যে মতবিরোধ আরও বাড়াবে।’
চীনের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ঝাং জুনও বলেন, এই সংঘাতের কোনো বৈধতা বা আইনগত ভিত্তি নেই এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করতে হবে।
রাশিয়া ও চীনের প্রতিনিধিরা জানান, তারা খসড়া প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যুদ্ধ শুরু করার পক্ষ হিসেবে উল্লেখ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু বাহরাইন ও যুক্তরাষ্ট্র তা গ্রহণ করেনি।
সূত্র: প্রেস টিভি