যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে ইরানে অবস্থানরত নাগরিকদের দ্রুত দেশ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক সমাবেশের মধ্যে এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে জেনেভায় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিকদের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত বছরের মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে তেহরান এবং তাদের এমন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম। তবে একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডসহ বৃহৎ বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন।
যেসব দেশ নাগরিকদের ইরান ছাড়তে বলেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ভারত, পোল্যান্ড, সার্বিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইডেন।
অস্ট্রেলিয়া সরকার নাগরিকদের ‘যত দ্রুত সম্ভব’ ইরান ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা উচ্চমাত্রায় রয়েছে এবং সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি অব্যাহত আছে।
জার্মান দূতাবাস জানিয়েছে, ইরান ও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির ও উত্তেজনাপূর্ণ। যেকোনো সময় সামরিক সংঘর্ষ বা আকাশপথে বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে।
ভারত সরকার শিক্ষার্থী, তীর্থযাত্রী ও ব্যবসায়ীসহ সব নাগরিককে সতর্কতা অবলম্বন এবং সম্ভাব্য উপায়ে ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী Donald Tusk ইরানে অবস্থানরত পোলিশ নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সংঘাতের সম্ভাবনা বাস্তব এবং পরে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।
সার্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নতুন করে ইরান সফর না করার আহ্বান জানিয়েছে এবং যারা ইতোমধ্যে সেখানে আছেন তাদের দ্রুত চলে যেতে বলেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস সতর্কবার্তায় বলেছে, সম্ভাব্য মার্কিন হামলা ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। নাগরিকদের দ্রুত দেশ ছাড়তে এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত করতে বলা হয়েছে।
সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড বলেছেন, ইরান ও আশপাশের পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। তাই সব ধরনের ভ্রমণ পরিহার এবং অবস্থানরত নাগরিকদের দ্রুত চলে যাওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত দূতাবাস থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দূতাবাস সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালু রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ তাদের মিত্র ইরানের পক্ষে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, যা পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করবে। সূত্র- আল জাজিরা