জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংস্কারের যে প্রস্তাবের ওপর গণভোট হয়েছে, তার পুরোটাই মানতে হবে, এর খণ্ডিত কোনো অংশ বাস্তবায়ন আমরা দেখতে চাই না।
এছাড়া দুর্নীতিমুক্ত দেশ ও বিচারবিভাগের স্বাধীনতা চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
আমির আরও বলেন, দেশটা তো সংসদ থেকেই পরিচালিত হবে ইনশাআল্লাহ। সংসদে একটা দল সরকারি দল হিসেবে আটেকটা দল বিরোধী দল হিসেবে থাকবে।
শক্তিশালী বিরোধী দল নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সংসদ চলতে হলে তো সরকারি দল ও বিরোধী দল লাগবেই। সরকারি দল বিরোধীদল হাতে হাত রেখেই চলবে যদি দেশ সঠিক পথে চলে। যদি বেঠিক পথে চলে, তাহলে ওই চাকা চালাব না।
জাতীয় পার্টির মতো বিরোধী দল হবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, জাতীয় পার্টি তো এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। এরা তো এখন ভূগোলে নাই। কেন নয়, তারা (জাতীয় পার্টি) তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এখন তারা শুধু ভোটের জগত থেকে যান নাই, জনগণের মন থেকেও উঠে গেছেন। কারণ তারা জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেন নাই। জামায়াতে ইসলামী ওই ভুল করবে না।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামিউল হক ফারুকী, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক ভূঞা, কাপাসিয়ার নবনির্বাচিত এমপি সালাউদ্দিন আইয়ুবী এবং ঢাকা উত্তর মহানগর জামায়াতের মজলিসে শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ।
এর আগে তিনি রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় সড়কপথে কিশোরগঞ্জে পৌঁছান। পরে সকাল ১০টার দিকে নিকলী উপজেলার শিমুলবাঁক এলাকায় নিহত জামায়াত সমর্থক শাহ আলমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন। এরপর তিনি নিকলী উপজেলার ছাতিরচর এলাকায় গিয়ে মৃত আরেক জামায়াত কর্মী আব্দুস সালামের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেন।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান। জনসভা শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুস ছালাম (৬০) নামে এক কর্মী নিহত হন। এ ছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি ইটনা মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনী সমাবেশে যাওয়ার পথে স্ট্রোকে শাহ আলম (৫০) নামে এক সমর্থকের মৃত্যু হয়।