শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন

এবার এনসিপি থেকে বিদায় নিলেন মওলানা ভাসানীর নাতি

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৪৭ অপরাহ্ন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে একের পর এক বড় বড় নেতার বিদায়ের ধারাবাহিকতায় এবার দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি ও এনসিপির কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী আজাদ খান ভাসানী।  

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এনসিপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে আজাদ খান ভাসানী লিখেছেন, ‘অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের হাত ধরে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে আমি যুক্ত হয়েছিলাম। শুরু থেকেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত লড়াইয়ের এক ধারাবাহিক অধ্যায় হিসেবে আত্মস্থ করেছি। তেপ্পান্ন বছরের পুঞ্জীভূত বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখাই ছিল আমার সেই পথচলার প্রেরণা।

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর দেখানো গণমানুষনির্ভর, আধিপত্যবাদ-সাম্রাজ্যবাদ ও বৈষম্যবিরোধী পালনবাদী রাজনীতির স্বপ্ন থেকেই প্রথমে জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে যুক্ত হই। সেই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় দলের কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বও গ্রহণ করি।’

তিনি আরও লেখেন, ‘কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, বাস্তব অভিজ্ঞতায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা, গণমানুষের প্রতি দরদ ও ত্যাগের যে গভীরতা প্রয়োজন এখানে তার স্পষ্ট ঘাটতি আমি অনুভব করেছি। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত সাফল্য দেখা যায়নি।’

আজাদ খান ভাসানী মনে করেন, ‘এই বাস্তবতায় বেশ কিছুদিন ধরে সরাসরি সক্রিয় না থেকেও দলটির সঠিক রাজনীতি ও সাফল্য কামনা করে গেছি। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা ও মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শের পক্ষাবলম্বনই আমার কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই দায় ও আদর্শের প্রতি অবিচল থাকতেই আজ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিক সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি।’

পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘এনসিপির সঙ্গে আমার এই স্বল্পকালীন পথচলায় কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো। তারুণ্যের অভিযাত্রী দলটির প্রতি রইলো আন্তরিক শুভকামনা। গণমানুষের রাষ্ট্র বিনির্মাণের সংগ্রামে তারা যেন সঠিক পথ খুঁজে পায় এই প্রত্যাশাই থাকলো।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৬ সেপ্টেম্বর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অনুমোদনে দলের কৃষক উইংয়ের প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে আজাদ খান ভাসানীকে প্রধান সমন্বয়কারী করা হয়েছিল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক পদত্যাগ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা ও তার স্বামী এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ এবং রোববার (২৮ ডিসেম্বর) যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনুভা জাবিন ও ফেনী-৩ আসনে এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মোহাম্মদ আবুল কাশেম পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এছাড়া জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নওগাঁ-৫ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন। খাগড়াছড়ি আসন থেকে নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপির খাগড়াছড়ি জেলার প্রধান সমন্বয়কারী ও দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা ঝুমা। রোববার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

1


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর