শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
অপ্রতিম হত্যায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে সবাই গ্রেপ্তার, জড়িতরা অনেকটা কিশোর অপরাধীর মতো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ চীনের ৫ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে ভারতের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩ মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ভারতের গণমাধ্যমে হাসিনাকে এখনো কথা বলতে দেওয়া অপ্রত্যাশিত: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ বাংলাদেশি নিহত আগামী ১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল: বিমানমন্ত্রী গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিএনপি সব সময় আপসহীন: মাহদী আমিন

আট বছর পর জন্ম নেয়া সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারেননি শহীদ মিনারুল

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫, ১১:৩৩ অপরাহ্ন

বিয়ের আট বছর পর ভূমিষ্ট হওয়া সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারেননি রাজশাহীর মিনারুল। দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও চিকিৎসার পর বিয়ের ৮ বছরের মাথায় মিনারুলের স্ত্রী শম্পা বেগম গর্ভবতী হন। মায়ের গর্ভে সন্তানের বয়স যখন সাত মাস তখনই রাজপথে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শহীদ হন তিনি।

রাজশাহীর বাসিন্দা মিনারুল জীবিকার তাগিদে নিজ শহর রাজশাহী ছেড়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বসবাস করতেন। সেখানে বেঙ্গল কোম্পানিতে চাকরি করতেন তিনি।

মিনারুলের স্ত্রী শম্পা বেগম  জানান, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দেশব্যাপী আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশের নির্বিচারে গুলিবর্ষণের সময় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলিবিদ্ধ হন মিনারুল।

শম্পা বেগম বলেন, ২০ তারিখ মেসের বাজার করতে বের হয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় কয়েক ঘণ্টা পড়েছিলেন। কেউ তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। দীর্ঘক্ষণ পরে কিছু মানুষ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পথেই মরা যান তিনি।

রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার গোলজারবাগ এলাকার মো. এনামুল হক (মৃত) ও মোসাম্মৎ ডলি বেগমের চার সন্তান। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে মিনারুল ছিলেন সবার ছোট।

মিনারুলের মা ডলি বেগম ছেলের কথা ভুলতে পারেন না। ভাবেন হয়তো তার ছেলে কখনও এসে তাকে মা বলে ডাকবে। কিন্ত না কখনও ছেলে যে ফিরবে না তা তার মন বোঝে না, বুঝতে চায় না। কারো সাথেই সেভাবে খুব বেশি কথা বলেন না তিনি। ছেলেকে হারিয়ে তিনি এখন শোকে পাগলপ্রায়।

বিয়ের পর ৭ বছর পর পেরিয়ে গেলেও তাদের ঘরে কোনো সন্তান হয়নি। দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও চিকিৎসার পর বিয়ের ৮ বছরের মাথায় মিনারুলের স্ত্রী শম্পা বেগম গর্ভবতী হন। সন্তান আসার খবরে খুশিতে উচ্ছ্বসিত ছিলেন মিনারুল। তখন স্বামীর সাথেই সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন মিনারুলের স্ত্রী শম্পা।

সন্তান-সম্ভবা হওয়ার পর শম্পা দুশ্চিন্তায় পড়েন। কারণ সেখানে তাকে দেখাশোনা করার কেউ ছিল না। তাই তিনি গর্ভে সন্তানের বয়স যখন ৩ মাস তখন তিনি স্বামীর ভাড়া বাসা থেকে নিজ শহর রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার গোলজারবাগে ফিরে আসেন।

কান্নাড়িত কণ্ঠে মিনারুলের স্ত্রী শম্পা বেগম বাসসকে বলেন, সে আমাদের ছেড়ে এভাবে চলে যাবে কখনও কল্পনাও করিনি। গর্ভে ৭ মাস বয়সেই আমার ছেলে সাইফান তার পিতাকে হারাল। ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মহানগরীর একটি বেসরকাারি হাসপাতালে সিজারিয়ানের মাধ্যমে আমার ছেলের জন্ম হয়েছে।

শম্পা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, এতিম হয়েই জন্ম হলো আমার নিষ্পাপ বাচ্চাটির। আমার ছেলে বাবার আদর থেবে বঞ্চিত হচ্ছে। বাবার আদর কোনাদিনও পাবে না। সন্তানকে নিয়ে ভবিষ্যতে কী করব তা ভেবে পাচ্ছি না। এখন রমজানের রোজা চলছে। রোজার পরে ঈদে সবাই আনন্দ করবে কিন্ত আমরা কী করব? আমাদের দিনগুলো কেমন করে কাটছে তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আমার নিরাপরাধ স্বামীকে যারা অকারণে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির দাবি করছি। যাতে কাউকে স্বামীহারা, বাবাহারা ও সন্তানহারা হতে না হয়। আমার স্বামীর খুনিদের বিচার হলে তার আত্মা শান্তি পাবে।

শম্পা আরও জানান, তার সন্তানের দায়িত্ব ও চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সন্তান জন্মের আগে ৫ আগস্টের পরপরই জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান আমাদের বাড়িতে এসে আমাদের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

তিনি বাসসের মাধ্যমে সরকারের কাছে তার ছেলে মিনারুলের খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান। তারা ছেলেকে ফিরে না পেলেও ছেলের হত্যাকারীদের বিচার হলে কিছুটা সান্ত্বনা পাবেন। ছেলের আত্মাও শান্তি পাবে।-বাসস


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর