বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
রাস্তায় দাঁড়িয়ে পদোন্নতি বঞ্চিত চিকিৎসকদের কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে : মির্জা ফখরুল চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে দেড় কোটি চারা রোপণ করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০তে হেরে এশিয়ান কাপ বাছাই শেষ করল বাংলাদেশ সাবেক এমপি শিবলী সাদিকের স্ত্রীর যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা জ্বালানি সংকটে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইনে ক্লাস ইরানের ক্যান্সার ওষুধ উৎপাদন কারখানায় মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা রেভল্যুশনারি বা ট্রানজিশনাল সরকার করলেন না কেন?, বিরোধী দলকে পার্থ আসন্ন বাজেটে বাড়ছে সিগারেটের দাম-এনবিআর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার দলিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গরু বিক্রির টাকা শেষ, এখন কি করে চলবে আহত আরমানের চিকিৎসা?

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৫, ১০:১৮ অপরাহ্ন

পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে মো. আরমান হোসেন রিদয় চতুর্থ। পড়েন গ্রামের মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণিতে। ফেসবুকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেখে পরিবারকে না জানিয়ে চলে যান ঢাকায়। তারপর পুলিশের গুলিতে আহত হন। প্রথমে ঘরের গরু বিক্রি করে চিকিৎসা চালিয়েছেন। বর্তমানে টাকার অভাবে চলছে না চিকিৎসা।

আরমান হোসেন রিদয় (১৬) নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের শান্তসীতা গ্রামের আক্কেল আলী মাঝি বাড়ির মো. আনাল হক ও রোকেয়া বেগমের ছেলে। তিনি স্থানীয় নন্দনপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

জানা যায়, গত ১ আগস্ট বাবা-মাকে না জানিয়ে জমানো টাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিতে ঢাকায় যান আরমান।

সদরঘাটে ফুফাতো ভাইয়ের বাসায় থেকে নিয়মিত আন্দোলনে যেতেন। ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ৫ আগস্ট বিকেলে বংশাল থানার সামনে পুলিশের টিয়ারশেলে আহত হন তিনি। এরপর গুলিবিদ্ধ হলে ছাত্ররা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার শরীরে বিদ্ধ হওয়া দুটি গুলি বের করা হয়। পরদিন ৬ আগস্ট বাড়িতে আসেন আরমান। তারপর যন্ত্রণা নিয়ে ফের ভর্তি হন হাসপাতালে। চিকিৎসা খরচ যোগাড় করতে ঘরের গরু বিক্রি করেন। সে টাকায় চিকিৎসা চালানো হয়। কিন্তু বর্তমানে টাকার অভাবে হচ্ছে না চিকিৎসা।

আরমান হোসেন রিদয় বলেন, ‘আমার শরীরে তিনটা গুলি লেগেছে। দুইটা বুকে আর একটা মাথায়। বুকের গুলির স্থানে ব্যথা না লাগলেও মাথার গুলির স্থানে ব্যথা করে । পরীক্ষার খাতায় লিখতে গেলে আবার মাথায় ব্যথা অনুভব করি। থেমে থেমে লিখতে হয়। কোন কাজ করতে পারিনা। মাথা টনটন করে।

আরমানের বাবা আনাল হক বলেন, ‘আমি পাগলের মতো হয়ে আছি। আমার তিন মেয়ে,দুই ছেলে। ছোট ছেলে আরমান গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। তারপর বাড়ি ফিরে আসলে যন্ত্রণা সহ্য করতে না পারায় হাসপাতালে ভর্তি করাই। সেখানে চিকিৎসকরা জানায়, তার মাথায় আরেকটা গুলি আছে। সেটি বের করতে ঘরের গরু ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি। বর্তমানে আমার ছেলে কাত হয়ে ঘুমাতে পারে না, সারারাত ছটফট করে। আমি বিভিন্নভাবে ঋণে জর্জরিত হয়ে আছি। চিকিৎসা করাতে পারছি না।

আরমানের শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন,আরমান ও তার ছোট বোন আমাদের মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে। বেশ কয়েকদিন আরমান মাদ্রাসায় অনুপস্থিত ছিল। আরমানের বোনকে জিজ্ঞেস করলে সে তার ভাইয়ের সম্পর্কে কিছু বলত না। আমরা খবর নিয়ে জানতে পারি আরমান গুলিবিদ্ধ হয়েছে।ঘরের গরু বিক্রির টাকায় চিকিৎসা নিয়েছে। তার বাবা বিভিন্নভাবে কষ্টে আছে। আরমানের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়ালে তার চিকিৎসা শেষ করা যেতো।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক হাসিব আহমেদ বলেন, ‘আরমান সাহসী ছেলে। সেদিন সাহস নিয়ে এগিয়ে গিয়েছে। তবে তার চিকিৎসার জন্য ঘরের গরু বিক্রি করতে হয়েছে, এটা খুবই কষ্টদায়ক। আমরা তার জন্য কি করা যায় তা অন্যদের সাথে আলাপ করবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আখিনূর জাহান নীলা বলেন, আমার কাছে বিষয়টা জানা ছিল না। জানতে পারলে সহযোগিতা করতাম। তবে এখনো তাকে সহযোগিতা করার সুযোগ রয়েছে। তার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হতে হবে। তারপর ভেরিফাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। তার চিকিৎসাসহ সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।-বাসস

 


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর