শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
রংপুর রাইডার্সের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন সোহান, নেতৃত্ব দেবেন লিটন আজ পবিত্র শবে মেরাজ বিশ্ব হয়ে উঠছে আরও বিপজ্জনক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরানের প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা স্থগিত: যেসব সমস্যায় পড়বেন বাংলাদেশিরা মাচাদোর নোবেল পদক ট্রাম্পকে প্রদান, বললেন ‘ধন্যবাদ মারিয়া’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথায় ইরানের ৮০০ বিক্ষোভকারীর দণ্ড কার্যকর স্থগিত অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আজ থেকে মাঠে গড়াচ্ছে বিপিএল, পরিবর্তিত সূচি প্রকাশ ইসলামী আন্দোলন ছাড়া জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত খালেদা জিয়ার স্মরণে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নাগরিক শোকসভা আজ

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা স্থগিত: যেসব সমস্যায় পড়বেন বাংলাদেশিরা

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ন

বাংলাদেশসহ বিশ্বের  ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন (ইমিগ্রেন্ট) ভিসা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে যারা পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের স্বপ্ন এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি বাংলা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অনেক ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিকল্পনা এই সিদ্ধান্তে থমকে গেছে। কবে নাগাদ ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে—সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে।

এমনকি যারা ইতোমধ্যে বৈধভাবে গ্রিন কার্ড বা মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের মধ্যেও এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন পূর্বে ইস্যু করা গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্ব পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণাও দিয়েছে।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?

মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে তথাকথিত ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি। প্রশাসনের মতে, অনেক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কর্মসংস্থানে যুক্ত না হয়ে সরকারি সহায়তা বা জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণ করেন। ফলে এখন থেকে নতুন অভিবাসীদের ক্ষেত্রে তাদের আর্থিক সামর্থ্য অত্যন্ত কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।

স্পন্সরদের ওপর বাড়তি চাপ

যারা আগে আত্মীয়-স্বজনদের স্পন্সর করে যুক্তরাষ্ট্রে এনেছেন এবং যদি তারা সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে সেই দায়ভার এখন স্পন্সরের ওপর পড়তে পারে। পর্যাপ্ত আয় না থাকলে বা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি থাকলে অভিবাসন ভিসা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে।

শিক্ষার্থী ও গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের সংকট

পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরবর্তীতে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনাকারীদের জন্যও পরিস্থিতি কঠিন হয়েছে। পড়াশোনা শেষে চাকরি খোঁজার যে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হতো, সেটি পাওয়ার প্রক্রিয়া এখন আরও জটিল হয়ে পড়বে।

এ ছাড়া যারা ইতোমধ্যে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছেন, ভিসা স্থগিতের কারণে তাদের দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তায় কাটাতে হবে।

দেশে আসতেও দ্বিধা

বর্তমানে যারা গ্রিন কার্ডধারী, তারাও ছুটিতে বাংলাদেশে আসার বিষয়ে দ্বিধায় পড়েছেন। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়ার পর পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে কোনো আইনি জটিলতায় পড়তে হবে কিনা—এই আশঙ্কা তাদের পিছু ছাড়ছে না।

কোন ভিসা এর বাইরে?

এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র অভিবাসন বা ইমিগ্রেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পর্যটন, ব্যবসায়িক ভ্রমণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসা এই সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ সাধারণ দর্শনার্থী ও বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের চলাচলে আপাতত কোনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা ভিসার জন্য আবেদন বা সাক্ষাৎকার দিলেও, স্থগিতাদেশ চলাকালে নতুন কোনো অভিবাসন ভিসা ইস্যু করা হবে না।

এদিকে দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-ওয়ানবি ভিসার ফি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে, যা বৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগকে আরও সীমিত করে দিয়েছে।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর