আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সিনেমা। ২০২৫ সালে এশিয়ার সেরা ২০ সিনেমার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের তিন সিনেমা। প্রভাবশালী চলচ্চিত্রবিষয়ক ওয়েবসাইট এশিয়ান মুভি পালস-এ প্রকাশিত এই তালিকা।
তালিকার ৫ নম্বরে রয়েছে মেহেদী হাসান পরিচালিত বালুর নগরীতে, ১৭ নম্বরে সৌমিত্র দস্তিদারের জুলাই ৩৬: রাষ্ট্র বনাম নাগরিক এবং ১৯ নম্বরে নুহাশ হুমায়ূনের ২ষ।
এশিয়ান মুভি পালসের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সিনেমা সম্পর্কে বলা হয়, এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের সিনেমার উত্থানকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নানা ঘরানা ও ফরম্যাটে আত্মবিশ্বাসী পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে দেশটির নির্মাতারা ধীরে ধীরে নিজেদের আলাদা জায়গা তৈরি করছেন।
নুহাশ হুমায়ূনের সিনেমাটি নিয়ে বলা হয়েছে, ‘২ষ কয়েকটি অসাধারণ গল্পের মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করে। যদিও এর কয়েকটি দুর্বল অংশ রয়েছে। তারপরও এটি একটি প্রশংসনীয় অ্যানথোলজি।’ ষ দিয়ে আগেই আলোচনায় আসেন নুহাশ হুমায়ূন। পরে তিনি ২০২৪ সালে নির্মাণ করেন অ্যানথোলজি সিরিজ ২ষ। চরকি অরিজিনাল সিরিজটিতে প্রচলিত হরর ধারণার বদলে মানুষের অন্তর্গত লালসা, ক্রোধকে ভয়ের গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
এতে এশিয়ার সিনেমা নিয়ে বলা হয়, সমকালীন এশীয় সিনেমা দিন দিন আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। পিছিয়ে থাকা দেশগুলো শৈল্পিক সিনেমা নির্মাণে এগিয়ে চলেছে। এসব সিনেমা ইতিহাস, স্মৃতি ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার প্রশ্নকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরছে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে খুব কমই দেখা যায়। আরও বলা হয়, সৌদি আরব ও তুরস্ক স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক দর্শকের সংযোগ তৈরি করে নিজস্ব সিনেম্যাটিক ভাষাকে আরও পরিশীলিত করছে। ইরান এখনো এ অঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি, যেখানে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও নির্মাতারা সামাজিক বাস্তবতা ও নান্দনিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে একত্রে তুলে ধরছেন।
এশিয়ান মুভি পালসের তালিকার শীর্ষ ২০ সিনেমার শীর্ষে রয়েছে ইরানের ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট। সিনেমাটি গত বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপাম জয় করে। জাফর পানাহি পরিচালিত এ সিনেমায় জেলে নির্যাতিত এক ব্যক্তির প্রতিশোধের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। তালিকায় ২ নম্বরে রয়েছে ইরাকের সমসাময়িক বাস্তবতা নিয়ে ৯ বছরের শিশুর বাবাকে খোঁজার গল্প ইরকালা: ড্রিমস অব গিলগামেশ। ৩ নম্বরে রয়েছে আরেকটি ইরানি সিনেমা: কাটিং থ্রো রকস। মোহামদ জাবারা আল দারাদজি পরিচালিত সিনেমায় উঠে এসেছে ইরানের গ্রামীণ এক নারীর আশা-আকাঙ্ক্ষার গল্প। তালিকায় ৪ নম্বরে রয়েছে সৌদি আরবের সিনেমা হিজরা। পরিচালক শাহাদ আমিনের রোড মুভিটি বিভিন্ন প্রজন্মের সৌদি নারীর মধ্যে গড়ে ওঠা বন্ধনকে কেন্দ্র করে তৈরি। তালিকার ৫ নম্বরে বাংলাদেশের ছবি বালুর নগরীতে।-নিউজ ২৪