শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন

প্রশাসন ও পুলিশে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ন

নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনের সর্বস্তরে ব্যাপক পরিবর্তন ও রদবদল হচ্ছে।

শুধু জনপ্রশাসনেই নয়, পুলিশ প্রশাসনেও হবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। নতুন মুখ দেখা যাবে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে। এরই মধ্যে জনপ্রশাসনের দুটি শীর্ষপদ মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিব নিজে থেকে সরে গেছেন এবং নতুন করে সেখানে নিয়োগও হয়েছে। সামনে বেশ কিছু সচিব, অনেক দপ্তর/সংস্থার প্রধান, মাঠপ্রশাসনে জেলা প্রশাসকসহ (ডিসি) গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। একইভাবে পুলিশের শীর্ষপদসহ বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান পদে পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। এসব নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানান আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে, অনেকে পদ পেতে দৌড়ঝাঁপও শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় ও মাঠপ্রশাসনের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে জানা গেছে। নতুন সরকার গঠনের আগেই চুক্তিতে থাকা মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার আবেদন করেন। চুক্তিতে থাকা আরও কয়েকজন সিনিয়র সচিব, সিনিয়র সচিবরাও স্বেচ্ছায় আবেদন করার কথা ভাবছেন। বিদায় করে দেওয়ার আগেই নিজ থেকে সম্মানসহ   বিদায় হতে নিজেরাই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্তত ১০টি মন্ত্রণালয় পাবে নতুন সচিব। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের এক দিন আগে চুক্তিতে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর নতুন সরকার মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারকে। জনপ্রশাসন থেকে একযোগে তিন কর্মকর্তাকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর পিএস, এপিএস এবং প্রটোকল অফিসার করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নতুন প্রতিমন্ত্রী সাবেক আমলা আবদুল বারী যোগদান করে কর্মকর্তাদের কাছে সার্বিক বিষয়ে জেনে নিচ্ছেন।

প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএএসএ) মহাসচিব, পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমরা সব সময়ই চাই যোগ্য লোক যোগ্য জায়গায় কাজ করুক। অ্যাসোসিয়েশন কখনো রদবদলের তালিকা করেও না, এটি আগে হলে হতে পারে। আমরা চাই সার্ভিসটা সুন্দরভাবে নিয়মের মধ্যে চলুক। কোনো প্রতিহিংসা না করে যোগ্যদের মূল্যায়ন থাকুক সব সময়।’ কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থার প্রধানের পদ খালি। এসব খালি পদ পূরণ করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও পরিবর্তন আনতে চায় নতুন সরকার। এ নিয়ে ভিতের ভিতরে কাজও চলছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সচিবালয়ের শীর্ষপদসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের পর দ্রুতই জেলা প্রশাসক পদেও পরিবর্তন আনা হবে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জনপ্রশাসন থেকে এ-সংক্রান্ত একটি তালিকা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সাবেক সচিব এ কে এম আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘জনপ্রশাসনে নতুন সরকার এসে পরিবর্তন আনা অস্বাভাবিক নয়। তবে বিএনপির নতুন সরকার বিগত সরকারের মতো দলীয়করণ করতে গিয়ে অযোগ্যদের যেন নিয়োগ না দেয়।’ নতুন সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সব সেক্টরেই দক্ষ কর্মকর্তা দরকার বলে মনে করেন সাবেক কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে সচিবালয়ে বিএনপিপন্থি কর্মকর্তাদের তৎপরতাও বেড়েছে। তাঁদের পক্ষ থেকে সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেতে জনপ্রশাসনমন্ত্রী ও মুখ্য সচিবের কাছে যাচ্ছেন অনেকেই।

রদবদলের আলোচনা পুলিশেও : পুলিশের শীর্ষপদ আইজিপি হিসেবে কে আসছেন, তা নিয়ে চলছে কানাঘুষা।

বিশেষ করে বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন এমন তথ্য সামনে আসার পর নতুন আইজিপি নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার পদ নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। জেলার পুলিশ সুপাররা (এসপি) নজর রাখছেন শীর্ষপদের রদবদল নিয়ে। শীর্ষপদের রদবদলের পরপরই রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার এসপি পদে রদবদল শুরু হবে বলছেন কর্মকর্তারা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে চুক্তিভিত্তিক উচ্চপর্যায়ে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এর বাইরেও নতুন আইজিপি হিসেবে অন্তত হাফডজন কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে। বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলম ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান। আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ডিএমপি কমিশনার পদে একটি মহানগরের কমিশনারসহ অন্তত একডজন কর্মকর্তার নাম আলোচনায় আছে।

নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘পুলিশসহ অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে দ্রুত জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।’ দ্বিতীয় দিনের মতো বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন ও নৈতিকতা উন্নতকরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর যুগোপযোগী উন্নয়নে আমাদের একটি সঠিক পরিকল্পনা দরকার।’- বাংলাদেশ প্রতিদিন।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর