বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
রাতেও সাধারণ মানুষের নিরাপদে চলাচল নিশ্চিতের আহ্বান এম এ মালিকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মি যমুনায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কে কোথায় উঠবেন মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগে আইনি নোটিশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন বাবার কাছ থেকে তরুণীকে তোলে নিয়ে হত্যার অভিযোগ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত সরকারের নতুন দায়িত্ব পেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ শুরু একুশে পদক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী

আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৪, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

আজ মঙ্গলবার সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর। ১৯৭০ সালের এ দিনে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সমূহের ওপর দিয়ে বয়ে যায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। সেদিনের কথা মনে পড়লে আঁতকে উঠে উপকূলীবাসী ।

স্মরণকালের ভয়াবহতম এ দুর্যোগে উপকূলীয় লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও বর্তমান কমলনগর উপজেলায় সৃষ্টি হয় চরম দুর্যোগময় পরিস্থিতির। লন্ডভন্ড হয়ে যায় সব কিছু।  মেঘনা নদীর উত্তাল ঢেউয়ের প্রবল স্রোতের টানে ভাসিয়ে নিয়ে যায় হাজার হাজার মানুষ, গবাদি-পশু, ঘর-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও  সম্পদ।  বিলীন হয়ে যায় দুই উপজেলার বেড়িবাঁধসহ অনেক জনপদ।

তখনকার প্রত্যক্ষদর্শী নুরুল ইসলাম ভূলু ও আবুল খায়ের বলেন, হঠাৎ ১০ ফুটের একটি জলোচ্ছাস হয়। এর মধ্যে নুরুল ইসলাম ভূলুর তিন আত্বীয়ের খোঁজ এখনো পায়নি। একই কথা বলেন, আবুল খায়েরও। তাদের চোখের সামনে দিয়ে আত্বীয়-স্বজনরা পানির তোড়ে ভেসে যায়। কিন্তু তাদের রক্ষা করতে পারেনি। চারিদিকে লাশ-আর-লাশ, লাশের গন্ধে মানুষ কাছে যেতে পারেনি। জলোচ্ছাসের কারণে মাটি দেয়া যায়নি মৃত মানুষগুলোকে। নদীতে ভাসিয়ে নিয়ে হাজার হাজার মানুষ ও গবাদিপশু। সেই দিনের ভয়াবহ দুযোর্গের কথা মনে পড়লে আজও এলাকার সাধারণ মানুষের মন ও পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। আঁতকে উঠে উপকূলীয় এলাকার মানুষগুলো।

এদিকে লক্ষ্মীপুরে মেঘনার উপকূলীয় এলাকায় পর্যাপ্ত আশ্রয়ণ কেন্দ্র এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেছে। যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে এসব চরাঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানীসহ ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করেছে স্থানীয়রা। রামগতির তলিরচর, বয়ারচর,বড়খেরী, চরআলগী ও কমলনগর উপজেলার চরফলকন, সাহেবেরহাট, চরকালকিনি, পাটওয়ারীহাট ও রায়পুরের চরঘাসিয়া ও চরকাচিয়া এবং সদর উপজেলার চরমেঘাসহ অন্তত ২০টি চরাঞ্চলের প্রায় সাড়ে তিনলাখ মানুষের বসবাস।

কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে সব সময় থাকতে হয়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আশ্রয়ণ কেন্দ্র না থাকায় ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাস ও যে কোন দুর্যোগের সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে আশ্রয় নিতে হয়। সেটাও অনেক কম। আর যেসব আশ্রয়ণ কেন্দ্র রয়েছে সেগুলোর অবস্থায় নাজুক। নেই দরজা-জানাল ও টয়লেট। এতে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ জেলায় ১৮৫টি আশ্রয়ণ কেন্দ্র রয়েছে। তা পর্যাপ্ত নয়। আরো আশ্রয়কেন্দ্র ও মাটির কিল্লা করার দাবি উপকূলের ৭লাখ মানুষের।

জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, দূযোর্গপূর্ণ এলাকায় চিহিৃত করে আশ্রয়ণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে বাচঁতে পর্যাপ্ত আশয়ণকেন্দ্র দরকার। আগামীতে সবাই যেন নিরাপদে থাকতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে। খুব শীঘ্র  আরো আশ্রয়ণ কেন্দ্র ও মাটি কিল্লা নির্মাণ কাজ শুরু করার আশ্বাস দেন তিনি।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর