বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
অপ্রতিম হত্যায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে সবাই গ্রেপ্তার, জড়িতরা অনেকটা কিশোর অপরাধীর মতো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ চীনের ৫ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে ভারতের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩ মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ভারতের গণমাধ্যমে হাসিনাকে এখনো কথা বলতে দেওয়া অপ্রত্যাশিত: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ বাংলাদেশি নিহত আগামী ১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল: বিমানমন্ত্রী গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিএনপি সব সময় আপসহীন: মাহদী আমিন

বন্যায় স্পেনে নিহত বেড়ে ২০৫, নিখোঁজ প্রায় ১৯০০

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৪, ১১:২৭ অপরাহ্ন

স্পেনের ভালেন্সিয়া, কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা ও আন্দালুসিয়া অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ২০৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া আরও অন্তত ১৯০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশটির ওই অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক বর্ষণ হয়। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, প্রতি বর্গমিটারে ৪০০ লিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং কিছু জায়গায় তা ৬০০ লিটার ছাড়িয়ে যায়।

শীতের পর গ্রীষ্মে মাটি খুব শুকনো থাকায় পানি ঠিকমতো শুষে নিতে না পারায় এ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, তিন মিটার উঁচু পানির স্রোত রাস্তায় নেমে এসে গাড়িগুলোকে খেলনার মতো স্তূপ করে ফেলেছে। বানের তোড়ে সেতু ভেসে গেছে, রেলওয়ে টানেল ধসে পড়েছে এবং মাঠ ডুবে গেছে। স্থানীয়দের অনেকে তাদের বাড়ি ও গাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু বানের ধাক্কায় তাদের অনেকেরই প্রাণহানি হয়েছে।

উদ্ধার কার্যক্রম তদারক সংস্থা সেন্টার ফর কোঅর্ডিনেটেড অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড অপারেশন্সের (সিইসিওপিআই) তথ্যানুসারে, মঙ্গলবার রাতভর প্রবল বর্ষণের পর বুধবার সকালে প্রাথমিকভাবে ১২ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা হয়, যা এখন বেড়ে ২০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। কেবল ভালেন্সিয়া অঞ্চলেই ২০২ জনের প্রাণ গেছে। এছাড়া কাস্তিয়া-লা মঞ্চায় দুজন ও আন্দালুসিয়ায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্প্যানিশ দৈনিক দিয়ারিওর খবরে বলা হয়েছে, এখনও অন্তত ১ হাজার ৯০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অনেকে তাদের গাড়ি বাঁচাতে ভূগর্ভস্থ গ্যারেজে গিয়েছিলেন, কিন্তু প্রচণ্ড বন্যায় সেখানেই মৃত্যু হয় তাদের।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত ২৩ হাজার বাড়ি এখনও বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে, বাকি সব বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ সংস্থা ইবারদ্রোলা।

বন্যায় স্পেনে নিহত বেড়ে ২০৫, নিখোঁজ প্রায় ১৯০০

ভালেন্সিয়ায় সড়ক পরিস্কারে ব্যস্ত স্বেচ্ছাসেবকরা। ছবি: সিনহুয়া
বন্যায় পূর্ব স্পেনের ভালেন্সিয়া অঞ্চল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, দুটি টানেল ধসে পড়ার পর রাজধানী মাদ্রিদ এবং ভালেন্সিয়ার মধ্যে দ্রুতগতির রেল যোগাযোগ তিন সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৮০ কিলোমিটার স্থানীয় রেললাইন এবং শতাধিক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের জন্য ২৫ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করেছে সরকার।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে উদ্ধার তৎপরতার বাড়াতে সমন্বিত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি নিহতদের স্মরণে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।

এদিকে, উদ্ধার অভিযানে সহায়তায় ৪০০ স্থলযান, ১৫টি হেলিকপ্টার এবং প্রায় দুই হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে ভালেন্সিয়ার শত শত স্বেচ্ছাসেবককে বেলচা ও ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা ও বাড়িঘর পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে দেখা গেছে।

তবে বন্যার মাঝেও লুটপাটের অভিযোগে প্রায় ৬০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ভালেন্সিয়াসহ হুয়েলভা, ক্যাস্তেয়ন, মায়োর্কা ও কাতালুনিয়ায় আরও বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

হঠাৎ এমন মুষলধারে বৃষ্টিপাতকে আবহাওয়াবিদরা ‘বিচ্ছিন্ন অতি-গভীর নিম্নচাপ’ বা ডিএএনএ নামে আখ্যায়িত করেছেন। ভূমধ্যসাগরের উষ্ণ স্রোত অতিক্রম করার সময় ঘটে বায়ুমণ্ডলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকে।

ডিএএনএ-র কারণে ১৯৫৭ ও ১৯৬৬ সালেও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে স্পেন। সে সময়েও তুরিয়া নদী উপচে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ভালেন্সিয়া শহরকে কার্যত ধ্বংস করে দেয়।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর