রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
সোমবার ইরান যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান-সংবাদ সংস্থা ফারস স্বাধীন ও উন্মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগোতে হলে দুই পক্ষের স্বার্থ মানতে হবে: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় শিক্ষক দম্পতি-সন্তানসহ চারজনকে হত্যা হামের উপসর্গে একদিনে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু আগামী অক্টোবরের মধ্যে চালু হবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী

ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় শিক্ষক দম্পতি-সন্তানসহ চারজনকে হত্যা

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ন

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ। বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষক দম্পতি, তাদের মাস্টার্স পড়ুয়া মেয়ে ও পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় রোববার ভোরে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ রোববার (২৩ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে  রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান ।

পুলিশ কমিশনার জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে বসে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ ইয়াবা সেবন করছিলেন। এ সময় ছাদে শব্দ পেয়ে খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে উপরে ওঠেন গণপতি চক্রবর্তী। ছাদে ইয়াবা সেবনের বিষয়টি দেখে বাধা দিলে তার গলায় থাকা গামছা দিয়েই তাকে হত্যা করেন অভিযুক্তরা।

তিনি জানান, এ সময় চিৎকার ও শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী সিঁড়ি বেয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেন। সিঁড়িতেই তাকে হত্যা করা হয়। পরে ঘরের ভেতর থেকে শব্দ শুনে বেরিয়ে আসেন ওই দম্পতির মাস্টার্স পড়ুয়া মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রাপ্তি। তাকেও গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত দুইজন।

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামীকে চার থেকে পাঁচ মিনিট চেষ্টা করেও হত্যা করতে পারছিলেন না মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। পরে রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়।

এরপর পরিবারের পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী পিয়মও বিষয়টি দেখে ফেলায় এবং তাদের পরিচয় প্রকাশ করে দেওয়ার আশঙ্কায় তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দুজনই সরাসরি অংশ নেন। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই।

তিনি আরও জানান, বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে রংপুর জেলা স্কুলে আসামীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা।

প্রসঙ্গত, শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মাস্টার্স পড়ুয়া মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রাপ্তি এবং পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী পিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রংপুরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার একদিন পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করল রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর