সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
সংসদ অধিবেশনের বিরতিতে দর্শক গ্যালারিতে শহীদ পরিবার ও আহতদের সাথে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী সংবিধান পুনর্লিখন নয়, সংশোধনেই সংস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বাংলা নববর্ষের শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’-সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ইরানে টানা ৩৭ দিন ইন্টারনেট বন্ধ দুই ডিআইজিসহ ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনই একমাত্র পথ: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ সংসদে পাস বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নতুন হেড ও গোলরক্ষক কোচ আসবেন ২ বছরের চুক্তিতে : বাফুফে কাবরেরা অধ্যায় শেষ, নতুন কোচের সন্ধানে বাফুফে

‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ সংসদে পাস

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন

সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া সংযোজন করে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

এই আইনের মাধ্যমে ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করে নতুন ধারা ৩৭ (ক) যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে জনসেবার কার্যক্রম ব্যাহতকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সংসদে এ সংক্রান্ত বিলটি উত্থাপন করেন এবং কণ্ঠভোটে এটি পাস হয়।

বিল অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বৈধ নির্দেশ অমান্য করেন বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া সরকারি নির্দেশনা ও পরিপত্র বাস্তবায়নে বাধা দেন, তাহলে তা ‘শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে।

এছাড়া অনুমতি ছাড়া দলবদ্ধভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা অন্য কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়াও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

নতুন বিধানে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে পদাবনতি, বেতন গ্রেড হ্রাস, বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে।

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিলটিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব ৭ কার্যদিবসের মধ্যে দিতে হবে।

জবাব সন্তোষজনক না হলে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং ওই কমিটিকে ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে একবারের জন্য অতিরিক্ত ৭ দিন সময় বাড়ানো যাবে।

গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে তদন্ত কমিটির সদস্যদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে তা তাদের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (পিএমআইএস) ও সরকারি নথিতে ‘অদক্ষতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হবে, যা তাদের বিরুদ্ধে পৃথক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কারণ হতে পারে।

বিল অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মচারী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। তবে, রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না, যদিও একই সময়ের মধ্যে পর্যালোচনার আবেদন করা যাবে।

বিলে উল্লেখ করা হয়, শৃঙ্খলাভঙ্গ দমন এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এই সংশোধন প্রয়োজনীয়।

এ আইন কার্যকর হলে ২০২৫ সালের ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ’ এবং ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ’ বাতিল হয়ে যাবে।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর