শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন

কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ: ডা. হারুন অর রশিদ

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে এক সময় কিডনি রোগের হার ছিল প্রায় ১৮ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে বেড়ে প্রায় ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে। কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ। বর্তমানে দেশে প্রায় দেড় কোটির কাছাকাছি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। 

আশঙ্কা জনক তথ্য হলো, ডায়াবেটিস আক্রান্ত প্রায় ৬০ ভাগ মানুষ জানেন না তারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ জানেন না তাদের প্রস্রাবের সঙ্গে অ্যালবুমিন নির্গত হচ্ছে, যা কিডনি রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

নিয়মিত ব্লাড সুগার ও রক্তচাপ পরীক্ষা করলে অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আজ বৃহস্পতিবার ( (১২ মার্চ)  বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে  মিরপুরস্থ কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এবার দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য কিডনি স্বাস্থ্য: মানুষের যত্ন, পৃথিবীর সুরক্ষা’। এ উপলক্ষে কিডনি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্ত, প্রস্রাব এবং রক্তচাপ পরীক্ষা করা হয়। এতে নিম্ন আয়ের প্রায় চার শতাধিক মানুষের স্ক্রিনিং করা হয়।

কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সভাপতি ও স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বোর্ড অব ট্রাস্টি রাশেদা কে. চৌধুরী।

প্রধান অতিথি জাতীয় অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান বলেন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কিডনি রোগ বিশ্বব্যাপী বাড়লেও আশার কথা হলো—এগুলোর অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, কিডনি রোগী দিন দিন বাড়ছে। ডায়ালাইসিস নেয়া রোগীদের বড় অংশই নারী। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে নারীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থাকেন এবং গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আসেন।

তিনি প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে বাধ্যতামূলক কিডনি রোগ স্ক্রিনিং চালুর জন্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করার আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধিই কিডনি রোগের প্রধান কারণ। অনেক ক্ষেত্রে এসব রোগের লক্ষণ না থাকায় মানুষ চিকিৎসকের কাছে যান না। ফলে অজান্তেই অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত হন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাসচিব ডা. রুহুল আমিন রুবেল,
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস রশিদ।

তারা জানান, কিডনি রোগীদের সহায়তা করাই কিডনি ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে এখানে প্রতি রোগীর ডায়ালাইসিস খরচ ১৬০০ টাকা, যা আরও কমানোর চেষ্টা চলছে। এছাড়া বহির্বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মাত্র ১০০ টাকায় দেওয়া হচ্ছে।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর