শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন

এবারের নির্বাচন দেশ পুনর্গঠনের-তারেক রহমান

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

এবারের নির্বাচন দেশকে পুনর্গঠনের নির্বাচন বলেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জনসমুদ্রে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ।

তিনি বলেন, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনরায়ে সরকার গঠন করে আপনাদের প্রত্যাশিত সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ধর্মবর্ণ-দলমতনির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করতে চাই। ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষে ভোট দেবেন। আমাদের নেতারা সব সময় আপনাদের পাশে থাকবেন। 

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় বড় মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিশাল নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

এর আগে, এদিন সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে আকাশপথে নীলফামারীর সৈয়দপুর রওনা হন তারেক রহমান। বেলা ১১টায় সেখান থেকে হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ে আসেন। সাড়ে ১১টার দিকে যোগ দেন সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের জনসভায়। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বক্তৃতা শুরু করেন তিনি।

দীর্ঘ ২২ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান বলেন, বহু বছর পর এই ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে আসতে পেরেছি। এজন্য আল্লাহর কাছে হাজার কোটি শুকরিয়া। প্রতি বছর শীতের সময় ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়ে আসতাম; গ্রামে গ্রামে যেতাম, উপজেলা-ইউপিতে যেতাম। দুস্থ মানুষের জন্য গরম কাপড় নিয়ে হাজির হতাম। আবার ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে এসে আমি দাঁড়িয়েছি। আজ এসেছি ভিন্ন পরিস্থিতি, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে।

এর আগে ২০০৩ সালের ৮ ডিসেম্বর সর্বশেষ ঠাকুরগাঁও এসেছিলেন তারেক রহমান। বক্তব্য শেষে তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর-১ আসনের ধানের শীষের ছয়জন প্রার্থীকে জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি সবাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে এসব প্রার্থীকে জয়ী করার আহ্বান জানান। সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কাজ হলো ১২ তারিখ পর্যন্ত এদের দেখে রাখবেন। ১২ তারিখ নির্বাচিত হলে তাঁদের দায়িত্ব হবে ২৪ ঘণ্টা আপনাদের দেখেশুনে রাখা।

জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীর পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুসহ ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড়ের নির্বাচনি আসনে দলীয় প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। ঠাকুরগাঁওয়ের সমাবেশ শেষে হেলিকপ্টারে নীলফামারী যান। নীলফামারী পৌরসভা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সেখান থেকে বিকাল পৌনে ৪টায় দিনাজপুরের বিরামপুরে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। এখন দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। দেশকে খাদ্যে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করতে চাই।

দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারেক রহমান বলেন, বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। মা-বোনদের শিক্ষিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। এসব কাজ যদি করতে হয়, তাহলে এ দেশের যে মালিক জনগণ, সেই মালিকের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের পক্ষে কাজগুলো করা সম্ভব নয়। এজন্য এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি আপনাদের সহযোগিতা চাচ্ছি, ধানের শীষে ভোট চাচ্ছি। যাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই অধিকার প্রয়োগ করবে মানুষ। মঞ্চের পাশে বসা জুলাই আন্দোলনে হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এখানে যে মানুষগুলো বসে আছেন, তাঁরা নিজেদের স্বজন হারিয়েছেন। সেই স্বজনেরা বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের অবদানকে কখনো বৃথা যেতে দেওয়া যায় না।

দেশ গঠনে নারীদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নারীদের যদি কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে না পারি, তাহলে কোনোভাবেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না। এ কারণে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন বাংলাদেশের মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা বিনামূল্যে করে দিয়েছিলেন। আজ দেশের কোটি নারী শিক্ষায় আলোকিত হয়েছেন। এই মা-বোন, নারীদের আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই।

নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ঘরে ঘরে গৃহিণী যারা আছেন, তাদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ডের অধিকারী হবেন এ দেশের মায়েরা। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার পরিচালনা করতে পারেন, এজন্য প্রতি মাসে একটা সহযোগিতা পৌঁছে দিতে চাই। এর ফলে তারা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন।

কৃষকদের জন্য আলাদা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করতে চাই। এনজিও থেকে দুস্থ মানুষ বিভিন্ন সময় যে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণ করেছে। তা জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধ করতে চাই। উত্তরাঞ্চল কৃষিপ্রধান এলাকা। আমরা চাই, এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত যত শিল্পকলকারখানা আছে, সেসব এই এলাকায় গড়ে তুলতে চাই।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনি জনসভায় প্রতিপক্ষ দলের বিপক্ষে কথা বলে জনগণের কোনো লাভ হবে না। জনগণ জানতে চায়, তারা যে আমাদের ভোট দেবে-বিনিময়ে আমরা তাদের জন্য কী করব? এই এলাকার মানুষের অনেকগুলো দাবি আছে। আমরা পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে চিনিকল, রেশম কারখানা, চা-শিল্পকে আবার গড়ে তুলতে চাই। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যাডেট কলেজের দাবিটা পূরণের চেষ্টা করব। ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুরে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার গড়ে তুলতে চাই। যারা আইটিতে কাজ করেন, তাদের জন্য আইটি পার্ক বা আইটি হাব গড়ে তুলতে চাই।

বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, মা-বোন ও শিশুদের জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গ্রামে গ্রামে হেলথকেয়ার নিযুক্ত করব। এখানে মেডিকেল কলেজের যে দাবি আছে, তা বাস্তবায়ন করব। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি দেখব। বন্ধ বিমানবন্দরটিও চালু করার ব্যবস্থা করতে চাই।

কেমন দেশ চান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই দেশ ২০ কোটি মানুষের দেশ। বেগম খালেদা জিয়া এত নির্যাতনের পরেও বলতেন, এই দেশটি তাঁর প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। এ কারণে আমরা জনগণের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। জনগণের সমর্থন নিয়ে, জনগণের ভালোবাসা নিয়ে, জনগণের শক্তিতে বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। যাতে খেটে খাওয়া মানুষ নিরাপদে চলাচল, ব্যবসাবাণিজ্য ও চাকরিবাকরি এবং মা-বোনেরা নিরাপদে কাজ করতে পারবেন, মানুষজন ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা পাবে।

তারেক রহমান বলেন, একাত্তরে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করা হয়েছে। ২০২৪ সালে আমরা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছি। এখন দেশকে গঠন করতে হবে, দেশকে তৈরি করতে হবে, দেশের অর্থনীতি-গণতন্ত্রকে মজবুত করে গড়ে তুলতে হবে। তারেক রহমান বলেন, এ দেশে হাজার বছর ধরে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করে আসছে। আগামী হাজার বছরও প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যেন শান্তিতে এ দেশে বসবাস করতে পারে। যে যার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সামনে এগিয়ে যাবে। প্রত্যেককে বিচার করা হবে তার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। কোনো ধর্ম দিয়ে তাকে বিচার করা হবে না।

ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে : বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা ব্যারাজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে ঘোষণা দেন তারেক রহমান। নীলফামারীর পৌর মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ১২ তারিখে দেশের মানুষ এবার ভোট দেবে। শুধু ভোট দিলে চলবে না দেশ গঠন করতে হবে। এটি করতেই হবে কারণ আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ।

তারেক রহমান বলেন, এই এলাকায় ইপিজেড আছে। আমরা এটিকে আরও বড় করতে চাই। যাতে এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। আমাদের ছেলেমেয়েদের দক্ষ করতে এই এলাকায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাই। এতে তারা দক্ষ শ্রমিকে পরিণত হবে।

বিএনপি জয়যুক্ত হলে মা-বোনদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা প্রত্যেক নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এর মাধ্যমে প্রত্যেক মা সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাবেন। কৃষকদের জন্যও পরিকল্পনা রয়েছে। এই এলাকা কৃষিনির্ভর এলাকা। কৃষকরা ভালো থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে। তারা যাতে সহজে কৃষিজাত পণ্য পেতে পারেন সেজন্য আমরা তাদের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেব। এ সময় তিনি বলেন, মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম, খতিবসহ অন্যান্য ধর্মের যাঁরা ধর্মগুরু আছেন, তাঁদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করেন। বিএনপি সরকারে গেলে তাঁদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা করতে চাই।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই এলাকার মানুষের একটি প্রাণের দাবি আছে, তা হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনা। ১২ তারিখ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। যাতে এই এলাকা এবার সবুজ, শস্য-শ্যামলা হয়ে উঠতে পারে। নীলফামারীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এটিও বাস্তবায়ন করা হবে। কিশোরগঞ্জ সৈয়দপুর শিল্পাঞ্চল, এই এলাকায় রেলকারখানাসহ আরও যেসব শিল্প আছে সেগুলো নতুন করে গড়ে তুলতে চাই।

তিনি আরও বলেন, এই এলাকার মানুষ যাতে ভোট দিতে না পারে তাই ভয় দেখানো হচ্ছে। যারা ভয় দেখাবে, অন্যায় করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

দিনাজপুরের লিচু, কাটারিভোগ চাল বিশ্ববাজারে পৌঁছানো হবে : দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্য কাটারিভোগ চাল ও লিচুকে বিশ্ববাজারে পরিচিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দিনাজপুর শুধু দেশের খাদ্যভান্ডার নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিশক্তির অন্যতম প্রতিনিধি হওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে। বিকালে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। হাজারো নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাটি উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

তারেক রহমান বলেন, দিনাজপুর তাঁর নানির বাড়ি এবং এই এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, নানিবাড়ির মানুষদের কাছে আমি ভোট চাই।

বেলা ২টায় মাওলানা মুফতি ফারহান আবিদের কোরআন তেলওয়াত ও পবণ কুমার ষষ্টির গীতা পাঠ এবং এলিজাবেথ কিচ্কুর বাইবেল পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠের জনসভা। দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে ও দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির পরিচালনায় বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান, আক্তারুজ্জামান মিয়া, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সায়েদ রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, বিএনপি রংপুর বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান সরকার, এম এ জলিল ছাড়াও বিএনপির স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

দিনাজপুরের কৃষিসম্পদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এখানকার মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং মানুষ পরিশ্রমী। কাটারিভোগ চালের সুগন্ধ ও স্বাদ যেমন অতুলনীয়, তেমনি দিনাজপুরের লিচু দেশের অন্যতম সেরা ফল। এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য কৃষির সঙ্গে শিল্পায়নের সমন্বয় জরুরি।

দিনাজপুরের বিশ্বখ্যাত লিচু ও কাটারিভোগ চালের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিনাজপুরের লিচু শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে পরিচিত। অথচ আজও আমরা লিচু প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারিনি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দিনাজপুরে আধুনিক হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। এতে লিচু সংরক্ষণ ও রপ্তানি সহজ হবে এবং কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবে। একইভাবে কাটারিভোগ চাল রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় শিল্পকারখানা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

তারেক রহমান জানান, দিনাজপুর অঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, সংরক্ষণাগার ও রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা স্থাপন করা হবে। এর ফলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পণ্য রপ্তানি সহজ হবে। তিনি দিনাজপুরকে একটি আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের নিরাপত্তা ও স্বাধীন চলাচল নিশ্চিত করাই বিএনপির অঙ্গীকার বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে এবং তিস্তা অববাহিকার মানুষকে মরুকরণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা হবে। কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। শেষে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি গণতান্ত্রিক, কৃষিবান্ধব ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর