শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন

নারী অধিকারকর্মী রোকেয়ার মৃত্যুতে জেএনএনপিএফের শোক

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ন

বিশিষ্ট নারী অধিকারকর্মী, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ এবং ‘স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি’র (এসইউএস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক বেগম রোকেয়া (মস্তরা)-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম (জেএনএনপিএফ)।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় ফোরামের নেতারা এ শোক জানান।

গত ৩০ জানুয়ারি সুইডেনের স্টকহোমে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

জেএনএনপিএফ নেতারা তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় তারা জানান, নারী অধিকার ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে বেগম রোকেয়া ছিলেন এক নিরলস সংগ্রামী। তার আজীবন কর্মযজ্ঞ নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ আন্দোলনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ২০০১ সালে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে কাজ শুরু করে।

এর ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালে সংগঠনটি ২৬টি নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়।বেগম রোকেয়ার জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৩ মার্চ নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কাওরাট গ্রামে। তার বর্তমান নিবাস ছিল নেত্রকোনা শহরের নিখিলনাথ সড়কে। তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতায় অষ্টম শ্রেণি শেষ করেই তাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়।

শিশু বয়সেই দুই সন্তানের জননী হন তিনি। তবে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি এসএসসি, এইচএসসি, বিএ এবং বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন।১৯৬৯ সালে তিনি নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। চাকরি, সংসার ও সন্তান লালনের পাশাপাশি তার মনোজগৎজুড়ে ছিল নির্যাতিত ও বঞ্চিত নারীদের জীবনচিত্র। সেই বেদনাবোধ থেকেই তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন একজন প্রতিবাদী, সংগ্রামী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নারী হিসেবে।

এসসিআই, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে কাজ করতে করতে একপর্যায়ে নিজস্ব সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজন অনুভব করেন তিনি। ১৯৮৫ সালে অবনীমোহন সরকার, অধ্যাপিকা রওশন আখতার, কাজল চক্রবর্ত্তীসহ কয়েকজন সমাজকর্মীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি’। সংগঠনের প্রাথমিক পুঁজি ছিল তার শিক্ষকতা পেশার বেতনের সামান্য সঞ্চয়।

শোকবার্তায় আরও বলা হয়, বেগম রোকেয়া নেত্রকোনাবাসীর কাছে স্নেহভরে পরিচিত ছিলেন ‘মন্তুরা আপা’ নামে—তিনি নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অসামান্য অবদানের জন্য চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর