ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুসহ দেড় হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় উভয়পক্ষের কয়েকশ’ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
ভালুকা মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে আতিকুল ইসলাম ও আমান উল্লাহ বাদী হয়ে দুটি মামলা (নম্বর–৩৩ ও ৩৪) দায়ের করেন। ওই দুই মামলায় ১৯১ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, গত রোববার বিকেলে উপজেলার বাটাজোড় এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের (হরিণ প্রতীক) নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন বাচ্চুর নির্দেশে তার কর্মী-সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গণসংযোগে বাধা দেন। এতে কয়েকজন আহত হন এবং একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
পরে সন্ধ্যার দিকে সিডস্টোর বাজারে যুবদল নেতা শামীম আহমেদের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় তিনজন আহত হন এবং ৭ থেকে ৮টি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে একই ঘটনায় এর আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমসহ ২১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৯শ’ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাসুদ ও রফিক উদ্দিন রফিক বাদী হয়ে সোমবার ও মঙ্গলবার রাতে মামলা দুটি (নম্বর–৩১ ও ৩২) দায়ের করেন।
ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত সহিংসতায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি চারটি মামলা রুজু করা হয়েছে। বিএনপির দায়ের করা একটি মামলার আসামি নাজিম মেম্বারকে দলীয় লোকজন আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রসঙ্গত গত রোববার ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) সংসদীয় আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ও দলটির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা থেকে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি এ হামলা চলে। এতে বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। -ইত্তেফাক