নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সভা করতে যাচ্ছে বেতন কমিশন।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পুরোনো ভবনের সম্মেলন কক্ষে পূর্ণ কমিশনের এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা শেষে বিকেল ৫টায় চূড়ান্ত সুপারিশ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে যেখানে ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, সেখানে সরকার আপাতত বরাদ্দ রেখেছে অনেক কম। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন ও ভাতা খাতে ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারি থেকেই নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকবেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
সূত্র জানায়, কমিশন ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। পুরো মাত্রায় এটি কার্যকর হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।
জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের থাকছে বড় সুখবর। তাদের গড় বেতন ১০৫ শতাংশ বাড়ানোর জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় তাদের বেতন-ভাতা ১৪০ শতাংশ বাড়িয়ে বর্তমানের ১৮ হাজার টাকা থেকে ৪২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হতে পারে। একইসঙ্গে ১ নম্বর গ্রেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেতন ৮০ শতাংশ বাড়িয়ে ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার সুপারিশ থাকতে পারে।
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী শিক্ষক, গবেষক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা মূল বেতনের বাইরে বিশেষ ভাতা পাবেন। এক্ষেত্রে একই গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সমান হলেও কর্মক্ষেত্রের গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের জন্য বাড়তি কিছু ভাতার সুপারিশ রাখা হয়েছে। আজকের সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই প্রতিবেদনটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে হস্তান্তর করা হবে।
তবে কমিশনের সব সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করা নাও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবনায় সরকারি চাকরিজীবীরা সন্তুষ্ট হবেন বলে তিনি আশা করছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে ২১ সদস্যের বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান এ কমিশনের প্রধান। ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা ছিল কমিশনের জন্য। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ।