জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি ও নাগরিকদের গোপন তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকার বেশি অবৈধ আয় করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের একজন কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস সহকারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিং এ তথ্য জানানো হয়।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ (৪১) ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) মো. আলামিন (৩৯)।
ব্রিফিংয়ে সিআইডি জানায়, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য এবং বিভিন্ন ধরণের নাগরিক সুবিধা পেতে এনআইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র দরকার হয়। আর সেই জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দিতে মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে একটা চক্র।
রাজধানীর পৃথক এলাকা থেকে এমনই চক্রের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধ ও বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে একজন কম্পিউটার অপারেটর ও একজন অফিস সহকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতরা হলেন, মো. হাবীবুল্লাহ এবং মো. আলামিন।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ১টি মোবাইল আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়।
সিআইডি আরও জানায়, তাদের কাছে গোপনীয় আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল যার মাধ্যমে দেশের এ সংক্রান্ত কার্যালয়ের এক্সেস ছিল। এই আইডি দিয়ে সহজেই দেশের সকল জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে পারতেন।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, এই দুইজনের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার জানান, মাত্র ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছেন তারা। প্রতিটি তথ্যের জন্য ৩০০ টাকা হিসাব করলে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা।
গ্রেপ্তার আলামিনের কাছে নির্বাচন কমিশনের একটি গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল, যার মাধ্যমে সারাদেশের নাগরিকদের এনআইডি তথ্য যাচাই করা সম্ভব হতো। ওই আইডি ও পাসওয়ার্ড তিনি পূর্বপরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্রে মো. হাবীবুল্লাহকে সরবরাহ করেন। এর বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ নিতেন মো. আলামিন।
অপরদিকে, মো. হাবীবুল্লাহ ওই গোপন আইডি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের সংবেদনশীল তথ্য জনপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতেন।
একই ব্যক্তির একাধিক এনআইডি থাকলে সেটির নোটিফিকেশন আসতে একবছরের মতো সময় লাগে। এই এক বছরের মধ্যে জালিয়াতি চক্রের উদ্দেশ্য সফল হয়ে যায় বলে জানানো হয় ব্রিফিং এ। জাতীয় পরিচয়পত্রের জালিয়াতি রুখতে নির্বাচন কমিশনও অভিযান পরিচালনা করে থাকে।