অনেক সমালোচনার পরেও বিএনপি জোর গলায় বলতে পারে- বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বাকস্বাধীনতাকে মুক্ত করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার পতাকা বেগম জিয়া ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’
আজ সোমবার প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ আয়োজিত শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রীর সঙ্গে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছে বিএনপি। হাজারো নেতাকর্মী প্রাণ দিয়েছেন, গুমের শিকার হয়েছেন। ৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিল। শুধু বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে ৪৭টি মামলা দেওয়া হয়েছিল। যে মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেটা কোনো মামলাই ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়াকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল, সেখানে দেয়ালের পলেস্তারা উঠে যেত, ইঁদুর দৌড়াতো। তার ৫ বছরের সাজাকে বাড়িয়ে উচ্চ আদালতে ১০ বছরে সাজা দেওয়া হয়। কি অবস্থা ছিল বিচার বিভাগের। মিথ্যা মামলায় যখন বেগম জিয়াকে কারাবন্দি করা হয়, তখন তিনি হেঁটে গেছেন, কিন্তু দুবছর পর তিনি যখন জামিনে মুক্তি পান, তখন আসেন হুইলচেয়ারে।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সবার আইকন বেগম জিয়া। তার জানাজা সুসংগঠিত ছিল না। তারপরও লাখ লাখ মানুষ তার জানাজায় কষ্ট করে এসেছিলেন। তার প্রতি ভালোবাসার এই দৃশ্য দেখেছে বিশ্ব। তিনি যেমন বিএনপির নেত্রী, তেমনি তিনি পুরো দেশের নেত্রী। সংকীর্ণতায় ভুগতেন না বেগম জিয়া।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বেগম জিয়ার বক্তব্য নিতে গেলাম, তিনি তখন হাসপাতালে খুব অসুস্থ, এতো নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তারপরও সে অবস্থায় বেগম জিয়া বার্তা দিলেন, প্রতিহিংসা নয়, প্রতিশোধ নয়, আসুন ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে গড়ে তুলি।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বেগম জিয়া আর ফিরে আসবেন না, কিন্তু তার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে, তার কাজগুলো সম্পূর্ণ করতে হবে। তার এ চলে যাওয়া নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে, শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘অনেক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র আছে বাংলাদেশকে পেছনে নিয়ে যেতে, সেগুলো রুখে দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীসহ সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’