বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
রাস্তায় দাঁড়িয়ে পদোন্নতি বঞ্চিত চিকিৎসকদের কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে : মির্জা ফখরুল চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে দেড় কোটি চারা রোপণ করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০তে হেরে এশিয়ান কাপ বাছাই শেষ করল বাংলাদেশ সাবেক এমপি শিবলী সাদিকের স্ত্রীর যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা জ্বালানি সংকটে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইনে ক্লাস ইরানের ক্যান্সার ওষুধ উৎপাদন কারখানায় মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা রেভল্যুশনারি বা ট্রানজিশনাল সরকার করলেন না কেন?, বিরোধী দলকে পার্থ আসন্ন বাজেটে বাড়ছে সিগারেটের দাম-এনবিআর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার দলিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষার কার্যকর প্রতিফলন চাই : চট্টগ্রামে মানববন্ধনে সনাক-টিআইবি

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : সোমবার, ১২ আগস্ট, ২০২৪, ৮:৫৭ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) – টিআইবি , চট্টগ্রামের উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষার কার্যকর প্রতিফলন দেখতে চায় সচেতন নাগরিক কমিটি।

আজ সোমবার   ইস্পাহানি মোড (লালখান বাজার) আমীন সেন্টারের সামনের সড়কে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সনাক-টিআইবি চট্টগ্রাম-এর সভাপতি এডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী।

টিআইবি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অ্যাক্টিভ সিটিজেন গ্রুপ (এসিজি) সমন্বয়ক মো. মামুনুল হক চৌধুরী, লিগ্যাল এমপাওয়ারমেন্ট বাংললাদেশ (এলইবি)’র পরিচালক কর্মসূচি ফজলে রাব্বি তৌহিদ, এক টাকায় বৃক্ষরোপন-এর সভাপতি শেখ আব্দুল্লাহ মো. ইয়াছিন ও সনাক সদস্য প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার প্রমুখ।

মানববন্ধনে দিবসটি  উপলক্ষে টিআইবি’র ধারণাপত্র পাঠ এবং দাবিসমূহ তুলে ধরেন ইয়েস সদস্য মো. মিরাজুল ইসলাম। মানববন্ধনে সনাক, ইয়েস, এসিজি’র সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে সনাক সভাপতি এডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এদেশের তরুণ সমাজ সর্বদা অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যার অতুলনীয় উদাহরণ। এ দেশের তারুণ্য চরম স্বেচ্ছাচারী ও অগণতান্ত্রিক শক্তিকে কীভাবে পরাভূত ও পরাজিত করতে হয়, তার ‘‘পাঠ্যবই’’ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। নির্লোভ ও স্বার্থহীনভাবে কীভাবে নিজেকে উৎসর্গ করতে হয়, তার অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তরুণ শিক্ষার্থীরা। যারা জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, যারা আহত ও বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছেন তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। যারা এই বিজয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং এখনও আন্দোলনের চেতনা সমুন্নত রাখতে ও বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ভূমিকার পাশাপাশি নিরলস পরিশ্রম করে রাস্তায় রাস্তায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের এই দৃষ্টান্ত অনাগত দিনে  যে কোনো ন্যায়ভিত্তিক আন্দোলনের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একইসঙ্গে ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে তারুণ্যের এই জয়রথ যেন সংকীর্ণ কোনো চোরাবালিতে আটকে না যায়, সেই লক্ষ্যে তাদের বাকস্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা সর্বোপরি তাদের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি। সনাক সভাপতি তরুণদের আশা-আকাক্সক্ষার ভিত্তিতে বৈষম্যহীন, সাম্য ও মেধাভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক, সুশাসিত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, রাজনৈতিক দলসহ সকল পক্ষকে এই আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তারুণ্যের শক্তিকে দমন নয়, বরং তাদের প্রাপ্য অধিকার, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং তরুণরা তাদের কাক্সিক্ষত স্বপ্ন পূরণে, দাবি আদায়ের আন্দোলনে যাতে নির্ভার থাকতে পারে  রাষ্ট্রকে তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। একইসঙ্গে ‘স্বৈরাচার-পতন’ উদ্যাপনের নামে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রতিষ্ঠানে হামলা, মন্দির ও উপসনালয় ধ্বংসসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ, গণমাধ্যম, পুলিশবাহিনী ও পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ আচরণের মাধ্যমে তারুণ্যের এই অর্জন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে এ জাতীয় আত্মঘাতী গর্হিত অপরাধ প্রতিরোধে তরুণ সমাজ স্বপ্রণোদিত হয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন, যে নতুন দিনের শুভসূচনা হয়েছে, এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার আলোকে রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে এদেশের সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চয়তাসহ একটি বৈষম্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক সুশাসিত স্বদেশ বিনির্মাণে দুর্জয় তারুণ্য অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে- বাংলাদেশের আপামর জনগণ সেই আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে তাদের সারথি হয়েছে।
মানববন্ধনে দিবসটি উপলক্ষে সম্ভাবনাময় যুব জনগোষ্ঠীকে জাতীয় অর্জনের মূল চালিকাশক্তি বিবেচনা করে টিআইবি ও এর তরুণ অংশীজনরা ১১ টি দাবি উপস্থাপন করেন।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর