শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ঋণ খেলাপির অভিযোগে ব্যবসায়ী সরওয়ার মোর্শেদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুতের একটি বড় অংশ টেনে নিচ্ছে ব্যাটারি রিকশা ও ই-বাইক: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী হাসানের ৬ শিকারে অস্ট্রেলিয়া অলআউট ১৯৮ রানেই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল বিপ্লব কুমারসহ পুলিশের ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত রাজনীতি নয়, মনেপ্রাণে ক্রীড়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কোকো : প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন আজ মার্কিন রণতরীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ৭ মার্কিন সেনা নিহত তিন জেলায় নতুন পুলিশ সুপার

ফিলিস্থিনের গাজা অভিমুখে ৪৪ দেশের ১০০ জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:০৩ অপরাহ্ন

ইসরায়েলের কঠোর অবরোধ উপেক্ষা করে ইউরোপ থেকে ফিলিস্থিনের  যুদ্ধ বিধবস্ত গাজার জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে সমুদ্রপথে যাত্রা শুরু করেছে একটি বিশাল নৌবহর। বিশ্বের ৪৪টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্রায় ১০০টি জাহাজের সমন্বয়ে গঠিত এই বহরটিকে বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সমুদ্র মিশন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অভিযানের আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গাজার জনগণের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতির বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।

এই নৌমিশনের সংগঠক ‌গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানিয়েছে, ছয়টি মহাদেশের বিভিন্ন দেশ—যেমন স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ—এই মিশনে অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা কেউই কোনো রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন না, বরং সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন।

নৌবহরের প্রথম অংশে ডজনখানেক ছোট আকারের জাহাজ রয়েছে, যেগুলোতে চিকিৎসক, মানবিক কর্মী, স্বেচ্ছাসেবী এবং জরুরি সহায়তা সামগ্রী বহন করা হচ্ছে। বহরটি গত ৩১ আগস্ট স্পেনের একটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ৪ সেপ্টেম্বর তিউনিসিয়ায় পৌঁছে দ্বিতীয় দলের সঙ্গে একত্রিত হয়েছে।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তার কারণে জাহাজগুলোর নির্দিষ্ট অবস্থান, সংখ্যা ও গন্তব্য বন্দরগুলোর নাম গোপন রাখা হয়েছে। তবে প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে তাদের ৭-৮ দিন সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই অভিযান পরিচালনা করছে চারটি প্রধান আন্তর্জাতিক কোয়ালিশন। এতে অংশ নিয়েছেন চিকিৎসক, সমাজকর্মী, শিল্পী, ধর্মীয় নেতা, আইনজীবী ও সমাজবিজ্ঞানীরা। সবাইকে একত্রিত করেছে একটি অভিন্ন লক্ষ্য— গাজার ওপর অবরোধ ও চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করা।

বার্সেলোনার প্লাসা দেল রেই-তে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা বলেন, আমরা মানবিক মর্যাদাকে প্রাধান্য দিচ্ছি। আমরা সংঘাত চাই না, বরং শান্তিপূর্ণভাবে গাজার জনগণের জন্য সহায়তা পৌঁছে দিতে চাই।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে ইসরায়েল গাজার আকাশ ও জলসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। এই অবরোধের ফলে খাদ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন জরুরি সামগ্রী প্রবেশে কঠোর বাধা তৈরি হয়েছে। গাজা এখন কার্যত বাইরের বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন।

২০০১ সালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজার ইয়াসির আরাফাত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর থেকে স্থল ও আকাশপথে প্রবেশের সুযোগ সীমিত হওয়ায় সমুদ্রপথই এখন মানবিক সহায়তার একমাত্র বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফ্লোটিলা মিশনের সদস্যদের মতে, এই অভিযান কেবল একটি ত্রাণ মিশন নয়, বরং এটি একটি প্রতীকী বার্তাও বহন করছে—গাজা যেন বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন না থাকে এবং অবরোধ যেন অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হয়।

সূত্র: এপি নিউজ


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর