সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক এমপি আবুল কালাম কবি ও সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারকে চেয়ারম্যান করে বাসস পরিচালনা বোর্ড গঠন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা করতে কানাডার প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ ২০২৭ এর ২১ জানুয়ারি সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের নীতিগত মিল রয়েছে: ড. তিতুমীর উপাচার্যকে ভেতরে রেখে ভবনে তালা দিলেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি: আটক ৪ জন রাষ্ট্রবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক গুম দিবসে আসকের বিবৃতি

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৩৩ অপরাহ্ন

গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আসক বলছে, ‘বলপূর্বক গুম’ শুধু একজন ব্যক্তির বা একটি পরিবারের ট্র্যাজেডিই নয়, বরং যে কোনও রাষ্ট্রের মানবাধিকার সুরক্ষায় চরম ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।

আগামীকাল শনিবার (৩০ আগস্ট ) আন্তর্জাতিক বলপূর্বক গুম দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ মন্তব্য করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ দিনটি গভীর শোক, উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে পালন করা হবে।

এতে বলা হয়, আসক বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব বলপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারকে সংহতি জানাচ্ছে, যারা তাদের অঞ্চলে বা প্রান্তে এই ধরনের নিষ্ঠুর ঘটনার শিকার হয়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আসক মানবাধিকারের পক্ষে এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে বিগত দেড় যুগ ধরে বলপূর্বক গুমের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অনেক পরিবার আজও প্রিয়জনের সন্ধানের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে। নিখোঁজ হওয়া এসব ব্যক্তির ভাগ্যে কী ঘটেছে—তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এখনও অজানা রয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায়নি। গুমের সংস্কৃতি একটি ভয়ংকর দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, যা আইনের শাসন ও নাগরিকের জীবনের অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বাংলাদেশে গুমের ঘটনার অন্তর্নিহিত কারণ উদ্‌ঘাটন করা জরুরি উল্লেখ করে আসকের বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে, গুমের ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি মূল ভূমিকা রেখেছে বলে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের বক্তব্যে উঠে এসেছে। নাগরিকদের ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকারকে দুর্বল করা, ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করার মত প্রবণতা বিগত সময়গুলোকে উদ্বিগ্ন করেছে। এ কারণে শুধুমাত্র বিচারের প্রক্রিয়া নয়, গুমের কারণের গভীর বিশ্লেষণও অপরিহার্য।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার গুম সংক্রান্ত কমিশন গঠন করেছে এবং আন্তর্জাতিক বলপূর্বক গুম বিষয়ক সনদে সই করেছে। আসক সরকারের পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।

আসক আশা করছে, গুম সংক্রান্ত কমিশন তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার সময় বাংলাদেশে গুমের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের দীর্ঘ দিন ন্যায় বিচার পাওয়ার আশা-প্রত্যাশা বিবেচনায় নেবে। আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর রয়েছে—ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বলপূর্বক নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান করা, দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে দায়িত্বপালন করা।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আন্তর্জাতিক গুম দিবসকে সামনে রেখে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, গুমের শিকার ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ, পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে, সব গুমের ঘটনায় দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ভবিষ্যতে গুমের মতো মানবাধিকারের লঙ্ঘন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু ভুক্তভোগীর নয়, পুরো সমাজের নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের জন্য অপরিহার্য।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর