আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রংপুর নগরীর সেনপাড়ার দি স্কাইভিউ নিজ বাসায় কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
হ্যাঁ- না গণভোট নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ বিষয়টি পুরোপুরি বোঝে না বলেই এটি করা হয়েছে। এটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন নয়। প্রথম থেকেই সংশ্লিষ্টরা স্বীকার করেছেন, এটি জনগণের আন্দোলন নয়। পরবর্তীতে কিছু রাজনৈতিক শক্তি প্রকাশ্যে বলেছে, তারা জনগণকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।
এটা সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশে করা হয়েছে। এটি একটি ‘মেটিকুলাসলি ডিজাইন’ পরিকল্পনা। হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে দেশকে একটি আধিপত্যবাদী ও উগ্রপন্থী পথে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ওরা বলেন— গোলামী না আজাদী। কিন্তু বাস্তবে ওরাই আমাদের গোলামির দিকে ঠেলে দিতে চায়।
হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে জোর করে বিশেষ শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে হচ্ছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করে ও চাপ প্রয়োগ করে তারা নিজেদের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। পরিণতিতে দেশকে উগ্রপন্থী ও সাম্প্রদায়িকতার দিকে ঠেলে দেওয়া হবে।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে, একাত্তরের স্বাধীনতাকে ভুল বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, স্বাধীনতার আগে নাকি ভালো ছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা অপ্রয়োজনীয় ছিল বার্তা দেওয়া হচ্ছে। যারা গণহত্যা চালিয়েছে, নারী নির্যাতন করেছে, লাখো মানুষ হত্যা করেছে, সেই শক্তিকেই পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। ভারত আমাদের সাহায্য করেছিল, সেটাকে ভুল হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এটা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কতটি আসন পাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ক্রমেই অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে। নির্বাচন আদৌ হবে কিনা, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে কিনা, এসব প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই। এমন বাস্তবতায় দল কতটি আসন পাবে সে বিষয়ে আগাম কিছু বলা সম্ভব নয়। আমাকে জিততে দেওয়া হবে কিনা, আমার আসনে ফেল করানো হবে কিনা সবই অনিশ্চিত। ভোটের দিন পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
নিজের জনপ্রিয়তার বিষয়ে বলেন, আমার অনেক জনসমর্থন আছে। কিন্তু সেই সমর্থকরা ভোট দিতে পারবেন কিনা এটাই এখন বড় প্রশ্ন। তবে জাতীয় পার্টির অবস্থান স্পষ্ট, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।-কালের কণ্ঠ