দেশের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বকে ‘সাহসী ও দূরদর্শী’ বলে মন্তব্য করেছেন। এছাড়াও তারা জিয়াউর রহমানের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান, সংকটকালীন সময়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা এবং তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন।
সম্প্রতি পৃথক সাক্ষাৎকারে তারা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এসব কথা জানিয়েছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আল ফিসা হযরত জিসান বাসস’কে বলেন, ‘আমার চোখে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন সাহসী রাষ্ট্রনায়ক ও দেশপ্রেমের প্রতীক। তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, বরং যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন দেখিয়েছেন।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘বর্তমান তরুণ সমাজের জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্ব একটি বড় অনুপ্রেরণা। দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয় এবং তরুণদের মাঝে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ তৈরিতে জিয়াউর রহমানের চিন্তাধারা আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।’
সরকারি আজিজুল হক কলেজের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহান তানভীর বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের একজন সাহসী দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী নেতা। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের মাধ্যমে জাতিকে সাহস ও অনুপ্রেরণা দেন।’
তানভীর আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের কৃষি, শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন গতি আসে। তিনি জনগণের অধিকার ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। সততা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ ছিল তাঁর জীবনের মূল আদর্শ।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মিনহাজুল আবেদীন বলেন, ‘আমার চোখে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন এমন একজন নেতা যিনি তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও দেশ গড়ার প্রেরণা তৈরি করেছিলেন।’
মিনহাজুল আরও বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলা, এক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত আমাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।
ঢাকা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাজিদুর রহমান সৈকত বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মানে সাহস, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল নাম। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি দৃঢ়তা ও কর্মনিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন।’
এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের শাসনামলে আত্মনির্ভরতা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ধারণায় যুবকদের সক্রিয় ভূমিকার কথা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি আত্মপরিচয়, জাতীয় চেতনা ও উন্নয়ন ভাবনার এক গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম বাসস’কে জানান, ‘আমার মতো একজন তরুণের কাছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মমর্যাদার এক উজ্জ্বল প্রতীক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তাঁর নাম চিরস্মরণীয়। স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি জাতিকে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিলেন।’
যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে পুনর্গঠনের কঠিন সময়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প ও প্রশাসনে নতুন গতিশীলতা আনতে কাজ করেন। তাঁর নেতৃত্বে গ্রামীণ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা আজও মানুষের কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় বলেও মন্তব্য করেন সাইফুল।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাব্বির মন্ডল বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক অদম্য দেশপ্রেম, সাহস এবং আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের প্রতীক। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সম্মুখসমরে নেতৃত্ব তরুণ প্রজন্মের কাছে এক সাহসের জ্বলন্ত উদাহরণ।’
সাব্বির আরও বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং মুক্তচিন্তার বিকাশে এক অবিসংবাদিত নেতা। এদেশের সচেতন তরুণ প্রজন্ম যদি নিজেদের দায়িত্ব ও আত্মপরিচয়ের জায়গা থেকে রাজনীতিকে ধারণ করতে চায়, সেক্ষেত্রে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শন তাদের অন্যতম প্রধান পাথেয় হিসেবেই বিবেচিত হবে।’
সরকারি আজিজুল হক কলেজের আরেক শিক্ষার্থী রজিবুল ইসলাম শাকিল বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সাহসী, দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে চিরস্মরণীয়। তারুণ্যের চোখে তিনি স্বাধীনতার চেতনা, জাতীয়তাবাদ ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশের প্রতীক।’
ঢাবি’র আরেক শিক্ষার্থী শিক্ষার্থী রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের অধিনায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান; কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন।’
স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন কর্মসূচি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও শিল্প পুনর্গঠনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখেন বলেও জানান এই শিক্ষার্থী। তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ করেন। তাঁর ‘গ্রাম হবে উন্নয়নের কেন্দ্র’ দর্শন আত্মনির্ভর বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে দেয়।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয়তাবাদের প্রতীক। আমার কাছে তিনি সবসময়-ই দূরদর্শী, গতিশীল ও অনুপ্রেরণাদায়ী নাম। সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কীভাবে নেতৃত্ব দিতে হয় তিনি তাঁর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’
মেহেদী আরও বলেন, ‘বিশেষ করে, দলমত নির্বিশেষে জাতীয়তাবাদের যে ঐক্য জিয়াউর রহমান গড়ে তুলেছিলেন, তা আমাকে উদার ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে চিন্তা করতে শেখায়। পাশাপাশি, তাঁর সততা, কর্মনিষ্ঠা এবং দেশপ্রেম আমার কাছে আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা। সর্বোপরি তিনি আমার কাছে, সততা দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের আদর্শ ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি।’
ঢাকা কলেজের ইতিহাস বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী মো. শাকিব আল হাসান বাসস’কে বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, একজন সফল সাহসী রাষ্ট্রনায়ক এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা।’
তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যুবসমাজকে জাতীয় উন্নয়ন ও রাষ্ট্রগঠনের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখতেন। তিনি তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, আত্মনির্ভরতা ও নেতৃত্ব বিকাশে উৎসাহ দেন। বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, উৎপাদনমুখী শিক্ষা, কৃষি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুবকদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নেতৃত্ব, কর্মমুখী চিন্তা, আত্মনির্ভরশীলতা এবং উন্নয়ন ভাবনার মাধ্যমে তিনি তরুণ সমাজকে দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী মো. নাহিদ হোসেন বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তরুণদের কাছে একাধারে আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, স্বাধীনতার ঘোষক এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক।’
নাহিদ আরও বলেন, ‘শহীদ জিয়ার প্রবর্তিত ১৯ দফা অর্থনৈতিক ও ‘খাল খনন’ কর্মসূচি তরুণ সমাজকে স্বনির্ভর বাংলাদেশের ধারণা দেয়। তিনি যখন দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন তখন বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক এবং আইন শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত ছিল। তিনি তার দৃঢ় নেতৃত্ব এবং জনগণের প্রতি অবিচল বিশ্বাস দিয়ে দেশকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসেন।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ সেশনের মেরিন সাইন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাজিবুল আমিন ফয়সাল বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালোরাতে যখন জাতি দিশা খুঁজছিল, তখন জিয়াউর রহমানের বজ্রকণ্ঠের স্বাধীনতার ঘোষণা তরুণদের বুকে গেঁথে দিয়েছিল লড়াইয়ের অসীম সাহস।’
এই শিক্ষার্থী আরও জানায়, আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, আজকের তরুণরা নিজেদের মেধা ও শ্রম দিয়ে সেই স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দিতে চায়। তাঁর ‘খাল খনন কর্মসূচি’ এবং ‘সবুজ বিপ্লব’ তরুণদের শিখিয়েছে স্বনির্ভরতার পাঠ। তরুণদের চোখে তিনি এক দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক।