শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন

সাত কলেজের আন্দোলন ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:৫৯ অপরাহ্ন

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ ঘোষণার এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা আগামী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকা কলেজের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন আন্দোলনকারী আবির হোসেন।

এ সপ্তাহের রোববার থেকে ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ দাবি ও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরুর দাবি জানিয়ে শিক্ষাভবন মোড়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। গতকাল শিক্ষা উপদেষ্টা আন্দোলনকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাদেশ ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না থাকায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। আজ সকাল থেকে শিক্ষাভবন মোড়ে জড়ো হওয়ার কথা থাকলে তা প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা। পরবর্তী পদক্ষেপ জানাতে দুপুর আড়াইটা নাগাদ সংবাদ সম্মেলন করেন।

লিখিত বক্তব্যে আবির বলেন, মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তির পর আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এক দফা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলাম। তবে গতকাল রাতে আমাদের শিক্ষার্থীদের আলোচনার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত হয় যে, আগামী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান এক দফার কর্মসূচি স্থগিত থাকবে। এ বিষয়ে সাত কলেজের সিনিয়র শিক্ষার্থীরাও আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা আগামী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। এ সময়ের মধ্যে পরবর্তীতে যেকোনো পরিস্থিতির আলোকে আমাদের পরবর্তী করণীয় ঠিক করে জানাবো।

তিনি বলেন, সাত কলেজের সমন্বয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে প্রায় দেড় বছর ধরে চলা আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামে আপনারাই ছিলেন অত্যন্ত কাছের মানুষ। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের এ সংগ্রাম শুধু বিগত দেড় বছরেরই নয়, এ সংগ্রাম ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই চলমান রয়েছে। আমরা এখন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে রয়েছি। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চলা দীর্ঘদিনের শোষণ–বঞ্চনার অবসান হবে। সুযোগ তৈরি হবে একটি গুণগত ও মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার। এখানে তৈরি হবে গবেষণার পরিবেশ।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি খসড়া প্রকাশের কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও শিক্ষা সিন্ডিকেট ও ষড়যন্ত্রকারীদের চাপে সরকার এ খসড়া এখনো চূড়ান্ত করে প্রকাশ করছে না। সর্বশেষ আমরা, গত ৭ ডিসেম্বর অধ্যাদেশ প্রকাশ, নতুন সেশনের ক্লাস শুরু করে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর এক দফা দাবি নিয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করি।

‘শিক্ষা ভবনের সামনে আমাদের দিন–রাত অবস্থানের পর গতকাল সোমবার দুপুরে অবস্থান কর্মসূচি থেকে আমাদের একটি শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দলকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। আমাদের প্রতিনিধিরা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত এক দফা দাবি ব্যাখ্যা করেন। শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এদিনের সভায় শিক্ষা উপদেষ্টাসহ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়।’

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাদেশ ও নবীন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর বিষয়গুলো পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অধ্যাদেশের বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘পরিমার্জনের কাজ সম্পন্ন করে আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিমার্জিত খসড়ার ওপর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করা হবে।’ তবে এ খসড়া কবে প্রকাশ হবে বা চূড়ান্ত অধ্যাদেশ কবে প্রকাশ হবে, এসব বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা উল্লেখ করা হয়নি। আর ক্লাস শুরুর বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে’।

‘আমরা বরাবরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সরকার তথা রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যশীল। বিগত সময়ের মতো এবারও আমরা বিশ্বাস রাখতে চাই, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের যে সময়সীমা জানানো হয়েছে, সে সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশ এবং নবীনদের শ্রেণী পাঠদান শুরু হবে। আমরা শুনেছি, চলতি মাসের মধ্যে অধ্যাদেশের আরেকটি খসড়া প্রকাশ করা হবে। আমরা সেই খসড়ায় গভীর দৃষ্টি রাখছি। শুনেছি, আগের খসড়ায় বৃহৎ সংশোধনী আনা হচ্ছে। শিক্ষা সিন্ডিকেট তথা ষড়যন্ত্রকারীদের প্রেসক্রিপশনে এমন সংশোধনী আনা হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, তবুও আমরা বলছি, মন্ত্রণালয়ের থেকে প্রকাশিত অধ্যাদেশে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের চাওয়া গুণগত শিক্ষার মান ও অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের অধ্যাদেশে যদি এর ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে শিক্ষার্থীরা সে অধ্যাদেশ ছুড়ে ফেলে দেবে। শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে কোনো ষড়যন্ত্রকারীদের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষার মান নিশ্চিতের লক্ষ্যেই এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর আন্দোলনের প্রতিনিধি সায়েদ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ফাহাদ।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর