আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকা কলেজের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন আন্দোলনকারী আবির হোসেন।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাদেশ ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না থাকায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। আজ সকাল থেকে শিক্ষাভবন মোড়ে জড়ো হওয়ার কথা থাকলে তা প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা। পরবর্তী পদক্ষেপ জানাতে দুপুর আড়াইটা নাগাদ সংবাদ সম্মেলন করেন।
তিনি বলেন, সাত কলেজের সমন্বয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে প্রায় দেড় বছর ধরে চলা আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামে আপনারাই ছিলেন অত্যন্ত কাছের মানুষ। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের এ সংগ্রাম শুধু বিগত দেড় বছরেরই নয়, এ সংগ্রাম ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই চলমান রয়েছে। আমরা এখন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে রয়েছি। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চলা দীর্ঘদিনের শোষণ–বঞ্চনার অবসান হবে। সুযোগ তৈরি হবে একটি গুণগত ও মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার। এখানে তৈরি হবে গবেষণার পরিবেশ।
‘শিক্ষা ভবনের সামনে আমাদের দিন–রাত অবস্থানের পর গতকাল সোমবার দুপুরে অবস্থান কর্মসূচি থেকে আমাদের একটি শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দলকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। আমাদের প্রতিনিধিরা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত এক দফা দাবি ব্যাখ্যা করেন। শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এদিনের সভায় শিক্ষা উপদেষ্টাসহ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়।’
‘আমরা বরাবরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সরকার তথা রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যশীল। বিগত সময়ের মতো এবারও আমরা বিশ্বাস রাখতে চাই, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের যে সময়সীমা জানানো হয়েছে, সে সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশ এবং নবীনদের শ্রেণী পাঠদান শুরু হবে। আমরা শুনেছি, চলতি মাসের মধ্যে অধ্যাদেশের আরেকটি খসড়া প্রকাশ করা হবে। আমরা সেই খসড়ায় গভীর দৃষ্টি রাখছি। শুনেছি, আগের খসড়ায় বৃহৎ সংশোধনী আনা হচ্ছে। শিক্ষা সিন্ডিকেট তথা ষড়যন্ত্রকারীদের প্রেসক্রিপশনে এমন সংশোধনী আনা হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, তবুও আমরা বলছি, মন্ত্রণালয়ের থেকে প্রকাশিত অধ্যাদেশে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের চাওয়া গুণগত শিক্ষার মান ও অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের অধ্যাদেশে যদি এর ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে শিক্ষার্থীরা সে অধ্যাদেশ ছুড়ে ফেলে দেবে। শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে কোনো ষড়যন্ত্রকারীদের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষার মান নিশ্চিতের লক্ষ্যেই এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর আন্দোলনের প্রতিনিধি সায়েদ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ফাহাদ।