এ ছাড়া সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে অর্থসংকটে রয়েছে সরকার। এ জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ব্যাপারে ধীরে চলো নীতি বেছে নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
অবশ্য সেই প্রস্তাব রিভিউ করারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। এর পরে রয়েছে বাজেট অধিবেশন। ইতিমধ্যে সংসদের কার্যপ্রণালি প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেহেতু বলেছেন তাই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন এই বেতনকাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। তবে এখনই সব বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, এজন্য কিছুটা সময় নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এদিকে গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পিকেএসএফ ও পে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। যদিও শিডিউলে দেওয়া তথ্য বলছে, তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান হিসেবে। তবে বৈঠকে পে কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সূত্র জানান, আসছে নতুন অর্থবছর ২০২৬-২৭-এ প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে সেটা কতখানি সম্ভব হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কেননা সরকারের মধ্যে অর্থসংকট আরো বেড়েছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যসংকট। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। তবে পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবিদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক এমন পরিস্থিতি তৈরিও করতে চায় না সরকার। ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত পে স্কেল রিভিউও করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্র জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে দেশে আর্থিক সংকট আরও বেড়েছে। এ যুদ্ধ কতটা দীর্ঘায়িত হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। যুদ্ধ যতটা দীর্ঘায়িত হবে সংকট ততই বাড়বে। এমনিতেই অর্থবছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে।
জানা গেছে, রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামাজিক সংকট আমলে নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর জন্য একটি কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু আর্থিক সংকট বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের আগে তা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেনি ড. ইউনূস সরকার। তবে পে কমিশন যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, সে অনুযায়ী একটি বেতনকাঠামোর সুপারিশমালা বর্তমান সরকারের কাছে রয়েছে। যেটি রিভিউ করার ঘোষণা দিলেও এখনো শুরু করা হয়নি। তবে বাজেট প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলে সেটি রিভিউ করা হতে পারে। অবশ্য তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব ছাড়ার প্রাক্কালে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছিলেন, ‘কমিশন যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সেটা বাস্তবসম্মত। আমরা এটা বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত সরকারের হাতে দিয়ে যাচ্ছি। আশা করি সরকার সেটা বিবেচনা করবে। এ ক্ষেত্রে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল সময়োপযোগী একটি বেতনকাঠামো ঘোষণা করা।’ এদিকে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পে স্কেল নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে যেহেতু সামনে অধিবেশন রয়েছে, তাই সেটা সংসদে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন