রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩-এর ২৯ ধারার ক্ষমতাবলে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিধিমালা, ২০২৩ সংশোধন করা হয়েছে।
নতুন সংশোধনীতে ‘আউটসোর্সিং সেবাকর্মী’ নামে একটি নতুন সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবাগ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫’-এর আওতায় সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত বাংলাদেশি নাগরিকরা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবেন।
সংশোধিত বিধিমালায় আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য ‘প্রগতি স্কিম’ চালু করা হয়েছে। এই স্কিমের আওতায় আউটসোর্সিং কর্মীরা ব্যক্তিগতভাবে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধিত হবেন। তাঁরা সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি পরিমাণের মাসিক চাঁদা বেছে নিতে পারবেন। কোনো কর্মী সাময়িকভাবে বেকার বা কর্মহীন থাকলে ওই সময়ে চাঁদা দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে না, তা ঐচ্ছিক হবে। তবে পুনরায় কাজে যোগ দেওয়ার পর বকেয়া চাঁদা এককালীন বা কিস্তিতে পরিশোধ করে হিসাব হালনাগাদ করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে পেনশন স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধাও রাখা হয়েছে। ঋণের জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনের আগের মাস পর্যন্ত সব চাঁদা নিয়মিত পরিশোধ করা থাকতে হবে। কমপক্ষে ২৪ মাস নিয়মিত চাঁদা দিলে অথবা নিজের হিসাবে ন্যূনতম ১ লাখ টাকা জমা থাকলে ঋণের জন্য আবেদন করা যাবে।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এই সংশোধনীর মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, অংশগ্রহণমূলক এবং মানুষের জন্য সুবিধাজনক করা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের কর্মী, আউটসোর্সিং সেবাকর্মী এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।