বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
রাতেও সাধারণ মানুষের নিরাপদে চলাচল নিশ্চিতের আহ্বান এম এ মালিকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মি যমুনায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কে কোথায় উঠবেন মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগে আইনি নোটিশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন বাবার কাছ থেকে তরুণীকে তোলে নিয়ে হত্যার অভিযোগ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত সরকারের নতুন দায়িত্ব পেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ শুরু একুশে পদক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকার যানজট সমস্যা সমাধানের জন্য ১২টি সুপারিশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির

নিউজ ডেস্ক | মেট্রোটাইমসটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট : রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৪, ৪:২৩ অপরাহ্ন

ঢাকার যানজট সমস্যার সমাধানে বাসের জন্য আলাদা লেনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, প্রধান সড়ক থেকে রিকশা, ইজিবাইকসহ ছোট ছোট যানবাহন তুলে দিয়ে উন্নত সিটি বাস পরিসেবা চালুর মাধ্যমে যানজট দূর করা সম্ভব।

আজ রবিবার (৬ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যত্রতত্র যাত্রী উঠা-নামা, পরিবহন সংশ্লিষ্টরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করায় যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী। নগরীর এক প্রান্ত থেকে যে কোনও গন্তব্যে যেতে চার-পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় পেড়িয়ে যাচ্ছে। ঢাকার যানজটে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে কর্মক্ষম মানুষের ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা। বুয়েটের তথ্য বলছে, প্রতি বছর এই যানজটে আর্থিক ক্ষতি পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা।’

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সংগঠনের মহাসচিব বলেন, ‘রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা বহুযুগ আগেই ভেঙে পড়েছে। নগরীতে চলাচলকারী বাস-মিনিবাস রঙচটা, লক্কড়ঝক্কড়, পেছনের লাইট-ইন্ডিকেটর আর সামনের লুকিং গ্লাস নেই। আসনে দুই পা মেলে বসা যায় না। বাসে উঠা-নামার পাদানি, ধরার হেন্ডেল ভাঙা থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে গাদাগাদি করে যেতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, অসুস্থদের জন্য এসব বাসে উঠা-নামা এবং ভেতরে গাদাগাদি করে যাতায়াত করা এক নারকীয় অবস্থা। তার ওপর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য, চালক-শ্রমিকদের দুর্ব্যবহার তো রয়েছেই। এমন বাস্তবতায় সামর্থ্যবানেরা ধার-দেনা করে ব্যক্তিগত গাড়ি কিনছেন। অন্যরা মোটরসাইকেলে রাইডশেয়ারিং, অটোরিকশা, ইজিবাইক পাঠাও-ওবারের মতো ছোট ছোট যানবাহনে যাতায়াতের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে বিশৃঙ্খল বাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ৪ লাখ প্যাডেলচালিত রিকশা, ৬ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ১ লাখ ৩৪ হাজার রাইডশেয়ারিংয়ের ছোট ছোট যানবাহন, ৩০ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা অবাধ যাতায়াতের কারণে নগরীর যানজট ও জনজট চরমভাবে বেড়ে চলেছে।’

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থা এখনও সেকেলে পদ্ধতিতে রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পরে নগরীর ৪ হাজার ট্রাফিক পুলিশ এখনও নিষ্ক্রিয়। যানজট কমাতে জরুরি ভিত্তিতে অত্যাধুনিক প্রকৌশলগত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা দরকার। এর পাশাপাশি প্রকৌশলগত গবেষণা করে দুই বা তিন লেনের ছোট ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক সিগনাল এক থেকে দুই মিনিট আর বড় ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক সিগনাল দুই থেকে তিন মিনিট চালু রাখা।’ যানজট হয় না এমন স্পটগুলোতে বাস স্টপেজ তৈরি করা, যত্রতত্র বাস দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলা বন্ধ করে নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ থেকে যাত্রী তোলা বাধ্যতামূলক করা জরুরি বলে দাবি করে সংগঠনটি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বিআরটিএ’র তথ্যমতে, রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে ছোট ছোট ৮০০ গাড়ি নামছে। জাইকার সমীক্ষা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীতে প্রতিদিন গড়ে ৪ কোটি টিপ যাত্রী যাতায়াত হয়, এর ৬০ শতাংশ গণপরিবহন ব্যবহার করেন। এসব যাত্রীদের ৬৭ শতাংশ কেবল বাস ব্যবহার করেন। অথচ ঢাকা সিটি বাসের মান-গুণ যাত্রীসেবার গত ২০ বছর ধরে কিছুই ঠিক নেই। ঢাকার যানজট কমাতে হলে সর্বপ্রথম বাস-মিনিবাস ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে। বাস রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে বাসের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করতে হবে। ছোট ছোট যানবাহনের নিবন্ধন ও নগরীর প্রধান সড়কে এসব যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে।’

ঢাকার যানজট সমস্যা সমাধানের জন্য ১২টি সুপারিশ তুলে ধরেন মোজাম্মেল হক। এর মধ্যে আছে–

১. উন্নত সিটি বাসের ব্যবস্থা করা, বাস রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে বাসের জন্য প্রাধিকার লেনের ব্যবস্থা করা।

২. মোটরসাইকেলসহ ছোট ছোট যানবাহন নিবন্ধন জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করা।

৩. প্রধান প্রধান সড়ক থেকে প্যাডেলচালিত রিকশা, ইজিবাইকসহ ধীরগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করা।

৪. ফুটপাত দখল মুক্ত করা, ফুটপাতে স্বাচ্ছন্দে পথচারী যাতায়াতের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনে সড়কের মিডিয়ানে উড়াল ফুটপাত তৈরি করা।

৫. ট্রাফিক সিগন্যাল ডিজিটাল করা, উন্নত বিশ্বের মতো ক্যামেরা পদ্ধতির ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেম চালু করা। জরিমানার অর্থ পরিবহন মালিক-চালকের ব্যাংক হিসাব থেকে আদায়ের ব্যবস্থা করা।

৬. প্রধান সড়কে, সড়কের বাঁকে পার্কিং, লোডিং, আনলোডিং বন্ধ করা; যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠা-নামা বন্ধ করা।

৭. হাত তুলে রাস্তা পারাপার বন্ধ করে জেব্রাক্রসিং, ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।

৮. ডিটিসিএ, ডিএনসিসি, ট্রাফিক বিভাগের সমন্বয়ে চার থেকে ছয় সদস্যের একটি ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞ টিম তৈরি করা, যারা সার্বক্ষণিক নগরজুড়ে যানজট পরিস্থিতি দেখভাল করে তাৎক্ষণিক সমাধান দেবে।

৯. ঢাকার প্রবেশদ্বারগুলো যানজটমুক্ত রাখার উপায় বের করা।

১০. মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার যানজটমুক্ত করতে গুলিস্তান পার্ককে অস্থায়ী টার্মিনাল বানানো, কারিগরি দিক বিবেচনা করে রাজধানীতে প্রবেশমুখী র‌্যাম্প বাড়ানো।

১১. বৈজ্ঞানিক পন্থায় গবেষণা করে দুই বা তিন লেইনের ছোট ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক সিগনাল এক থেকে দুই মিনিট আর তিন বা চার লেনের বড় ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক সিগন্যাল দুই থেকে তিন মিনিট চালু রাখা।

১২. বাস দাঁড়ালে যানজট হয় না– সমীক্ষা চালিয়ে এমন স্পট খুঁজে নগরজুড়ে ৩০০ বাস স্টপেজের ব্যবস্থা করা। এসব স্টপেজে যাত্রী ওঠা-নামা বাধ্যতামূলক করা। ইতোমধ্যে তৈরি বাস-বেগুলোর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন– এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, যাত্রী কল্যাণ সমিতি সহ-সভাপতি তাওহীদুল হক, যুগ্ম মহাসচিব এম মনিরুল হক প্রমুখ।


এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর