বাংলাদেশের কিংবদন্তি গোলরক্ষক রনজিৎ দাশ সিলেটে নিজের প্রিয় ‘কমলাকান্ত ভবন’ ছেড়ে ৯৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেছেন দেশের ফুটবলের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র।
আজ সোমবার ( ২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সিলেটের একটি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
সিলেট থেকে রনজিৎ দাশের ছেলে রাজীব দাশ গণমাধ্যমকে বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভোর চারটার দিকে বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়।
কয়েক ঘণ্টা পর সকালে তিনি মারা যান।’ রাজীব দাশ আরও জানান, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত ৩১ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। গতকাল তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করলেও রাতে আবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন।
আজ সন্ধ্যায় সিলেটের তালিবন্দর শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।দেশ স্বাধীন হওয়ার আগের ফুটবলে রনজিৎ দাশ ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৯৫৫ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত নিয়মিত পূর্ব পাকিস্তান দলের গোলপোস্ট আগলে রেখেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, চার মেয়ে এবং অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন।
বেশ কয়েক বছর ধরেই শ্রবণশক্তি হারিয়েছিলেন রনজিৎ দাশ। তবে লিখে কিছু জানালে সাবলীলভাবেই উত্তর দিতেন। সাম্প্রতিক সময়ে কথা বলার ক্ষমতাও কিছুটা কমে এসেছিল। গত বছরের ২৫ এপ্রিল তার বাসভবনে ‘ক্রীড়াঙ্গনে ফেলে আসা দিনগুলো’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
গোলরক্ষক হিসেবে স্বাধীনতার আগে ইস্পাহানি ক্লাব, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলেছেন রনজিৎ দাশ।
ফুটবলের পাশাপাশি হকিতেও ছিল তার সমান দাপট।পঞ্চাশের দশকে ফুটবল খেলার পর ১৯৬৫ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ঢাকায় হকি লিগেও নিয়মিত খেলেছেন তিনি। ফুটবলে আইএফএ শিল্ডে ত্রিপুরা একাদশ ও ঢাকা মোহামেডানের জার্সি গায়ে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। কলকাতা মোহামেডানের হয়ে দিল্লিতে ঐতিহ্যবাহী ডুরান্ড কাপেও খেলেছেন এই কিংবদন্তি।
১৯৫৮ সালে রনজিৎ দাশের অধিনায়কত্বে ঢাকা ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব। হকিতে তিনি পূর্ব পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ছিলেন। খেলোয়াড়ি জীবনে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের পর খেলেছেন সোনালী ব্যাংকের হয়ে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সিলেট দলের অধিনায়কত্বও করেছেন তিনি।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে পূর্ব পাকিস্তান যুব দল ও আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন রনজিৎ দাশ।