ফিলিস্থিনের গাজা উপত্যকা এখন রীতিমতো ধ্বংসস্তূপ। পুরো শহরই যেন ধূলায় মিশে গেছে। বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ সরবরাহে রয়েছে প্রবল সংকঠ। অনাহার ঠেকাতে পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এরই মাঝে দুই বছরের বেশি সময়ের যুদ্ধে বিধ্বস্ত একটি এলাকার জন্য একটি ঝকঝকে নতুন জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার পক্ষ থেকে।
বৃহস্পতিবার ( ১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’ এর উদ্বোধনী সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। নয়টি সরকার গাজা ত্রাণ প্যাকেজের জন্য ৭ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্য পাঁচটি দেশ বলেছে যে তারা একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশ হিসেবে সৈন্য মোতায়েন করবে। এ প্রসঙ্গে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমাদের কেবল ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল বা রাস্তা পুনর্নির্মাণ করলেই হবে । আমাদের মানুষ, আবেগ, আশা এবং বিশ্বাসকেও পুনর্গঠন ও তৈরি করতে হবে। আর এটাই হলো ফুটবল, আমার খেলাধুলার মূল কথা।’
ফিফা ২০,০০০ থেকে ২৫,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতার একটি নতুন স্টেডিয়ামের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার বা ৬১২ কোটি টাকা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং বলেছে তারা ১৫ মিলিয়ন ডলারে একটি ফিফা একাডেমি তৈরি করবে। সংস্থাটি ৫০টি ‘অ্যারেনা মিনি পিচ’ বা ফুটবল মাঠের জন্য অতিরিক্ত ২.৫ মিলিয়ন ডলার এবং প্রতিটি ১ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পাঁচটি পূর্ণ-আকারের মাঠ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গাজার কোনো নিজস্ব জাতীয় ফুটবল দল নেই। একটি সম্মিলিত ফিলিস্তিনি দল গাজা এবং পশ্চিম তীরের প্রতিনিধিত্ব করে এবং ১৯৯৮ সাল থেকে ফিফা কর্তৃক স্বীকৃত— তবে তারা কখনোই বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবল বা সকার, এখানে যে নামে ডাকা হয়, তা হলো বিশ্বের সর্বজনীন ভাষা। এটি আশার কথা। এটি আনন্দের কথা। এটি সুখের কথা। এটি একত্রিত হওয়ার কথা। এটি বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার কথা।’